এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে যুবকরা চাকরির জন্য আত্মাহুতি দেবে না: সেলিম উদ্দিন

কোনো যুবককে আর চাকরির জন্য বিদেশে গিয়ে আত্মাহুতি দিতে হবে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি ইনসাফপূর্ণ ও মানবিক দেশ হিসেবে গড়ে তুলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমার দেশের কোনো যুবককে আর চাকরির জন্য রাস্তায় রাস্তায় মিছিল করতে হবে না। এ রকম একটা স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ।’
মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সকলের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা কাজ করে যাচ্ছি… ক্ষমতা আমাদের লক্ষ্য না। তবে যারা ক্ষমতায় যাবেন- তাদেরকে এগুলো করতে হবে। আমাদের নিকট দায়িত্ব আসলেও আমরা করবো ইনশাআল্লাহ।’
গতকাল মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭.৩০ ও রাত ৮.৩০টায় তেজগাঁও,বাড্ডার ২টি রেস্টুরেন্টে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও হাতিরঝিল অঞ্চল পরিচালক হেমায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক, সহকারী অঞ্চল পরিচালক মু. আতাউর রহমান সরকারের পরিচালনায় কারওয়ানবাজারে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা।বক্তব্য রাখেন আমিনুল ইসলাম, জিল্লুর রহমান, নোমান আহমেদী,আহসান উল্লাহ,ইউসুফ আলী মোল্লা প্রমুখ।
রাজধানীর বাড্ডায় একটি রেষ্টুরেন্টে ছাত্র জনতার বৈষম্য বিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ গঠনে আমাদের করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারী জনাব নাজিম উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আ.রহমান মূসা, উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট ব্যাংকার হেদায়াত উল্লাহ, ব্যবসায়ী ফজলে আহমাদ ফজলু,মাওলানা কুতুব উদ্দিন, মাসুদুর রহমান, আব্দুস সবুর ফরহাদ, এডভোকেট রেজাউল করীম প্রমুখ।
শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা একটি যৌক্তিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। একপর্যায়ে দেশের আপামর জনতা আমরা সবাই সাড়া দিয়েছি। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে আন্দোলন সফল হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো- ‘একটা শত্রু বাহিনী কোনো দেশে হামলা করলে যেভাবে নির্বিচারে গুলি চালায়, আমাদের ছাত্রদের আন্দোলনকে দমানোর জন্য আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রের বাহিনীকে ব্যবহার করে ঠিক সেভাবে নির্বিচারে গুলি করে মানুষকে খুন করেছে। অসংখ্য মানুষকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।’
ছাত্রদের আন্দোলনকে প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তারাই(ছাত্ররা) আগামীর বাংলাদেশ, তাদেরকে আমাদের এগিয়ে নিতে হবে। একটা স্মার্ট বাংলাদেশ, একটা আধুনিক বাংলাদেশ, একটা নৈতিকতাপূর্ণ বাংলাদেশ, একটা মানবিক বাংলাদেশ আমাদের এই ছাত্রসমাজ কায়েম করবে।’
তিনি বলেন, আন্দোলনে এতো ত্যাগ এবং কুরবানীর মধ্য দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা। স্বাধীনতা আমরা আরও একবার অর্জন করেছি। সেখানে স্লোগান ছিল- সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার এবং অবাধ গণতন্ত্র। এই চারটার কোনোটারই লক্ষণ আমরা বাংলাদেশে দেখি নাই। এই চারটারই অপমৃত্যু ঘটানো হয়েছে। এখন ছাত্ররা বলছে, আমরা বৈষ্যম্যের অবসান চাই। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। এতো বড় বিপ্লবের ঘটনা কয়েকশ’ বছরের ইতিহাসে নেই। যে সাহসী… মা তার কোলের বাচ্চাকে নিয়ে চলে আসছে, বলছে মরলে একসাথে, বাঁচলেও একসাথে বাঁচবো, জেলে গেলে একসাথেই জেলে যাবো। ঘরে তো থাকতে পারতেছি না। নিকট ইতিহাসে পৃথিবীর কোথাও এরকম ছেলে, মেয়ে ছোট-বড় সবাই একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘটনার নজির নেই।
মহানগরী আমীর বলেন, এই বিপ্লব আল্লাহর দান। মানুষের মনে এই বিপ্লবের বাণী আল্লাহ দিয়েছেন। এই আন্দোলন কোনো বিশেষ কোনো দলের নয়। এই আন্দোলনের কৃতিত্ব মাবুদের । তিনি যদি আমাদের বিজয় না দিতেন আমরা পেতাম না। এখন বাংলাদেশ কিন্তু হিরো হয়ে গেছে। বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে পাকিস্তানের ছাত্ররা আন্দোলন করতেছে। ভারতেও আন্দোলন হচ্ছে এবং সেখানে তারা বাংলাদেশের পতাকাকে উঁচু করে ধরছে, পৃথিবীময় ছড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের আন্দোলনের দাবানল।
সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা মানুষের কল্যাণের জন্য অনেক কাজ করি, যেগুলোতে নিজস্ব কোনো স্বার্থ নেই। আমরা এই কাজগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। একটা মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আমরা পথ প্রদর্শক হতে চাই। আমরা বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে কায়েম করতে চাই। আমরা একটা মানবিক রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই। আমাদেরকে নেতাদেরকে যখন মিথ্যা ও সাজানো মামলায় ফাঁসি দিচ্ছে, আমাদেরকে যখন মেরে ফেলছে, তখনও বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমাদের আমীরে জামায়াত গলা পানিতে নেমে চালের বস্তা নিয়ে পিঁয়াজের বস্তা নিয়ে , শুকনো খাবার নিয়ে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়েছেন।

জামায়াতের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে জাতি গঠনে দলের অবদানের কথা তুলে ধরেন মহানগরী আমীর। সাম্প্রতিক ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের পরিবার, আহতদের চিকিৎসার জন্য সহায়তায় জামায়াত এগিয়ে আসা, চিকিৎসা, মানবিক সেবা ও সহায়তাসহ অনলাইন, অফলাইনে নানা রকম সামাজিক কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।