আজ দুপুরে মিরপুরে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আমীরে জামায়াত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, শহীদরা যে জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের সেই স্বপ্ন যেন বাস্তবায়ন হয়। তিনি হাদীসের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, শহীদরা হাশরের দিন আত্মিয় স্বজনদের জন্য সুপারিশ করতে পারবে, যাদের ইতিমধ্যে জাহান্নাম নির্ধারিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, অতীতে কে কি করলো, তা নিয়ে প্রতিশোধ পরায়ন না হই। সবাইকে আল্লাহ হেদায়েত দান করুন। তিনি আরো বলেন, বৈষম্য বিরোধী, ইনসাফপূর্ন সমাজ প্রতিষ্ঠায় হাতে হাত রেখে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা ক্ষমতার মসনদের জন্য রাজনীতি করি না। এটা আমাদের দায়িত্বের অংশ। আল্লাহ তায়ালা যদি চান, তাহলে জনগনের জন্য সামগ্রিকভাবে খেদমত করবো। ভয় করি, প্রত্যেক নাগরিকের এই দায়িত্বের বোঝা বহন করতে পারবো কী না। এ জন্য আল্লাহ তায়ালা আমাদের কাধ যেন মহবুত করে দেন এবং বুক যে প্রশস্ব করেন।

আমীরে জামায়াত বলেন, রাজনীতিতে ভাগাভাগি নয়, এই মুহুর্তে আমরা চারটা কাজ করছি। প্রথম কাজ হচ্ছে, সমাজের শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনা। দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে, যারা শহীদ হয়েছে, তাদের পরিবারের দোয়া নেয়া, তৃতীয় কাজ হচ্ছে, যারা আহত হাসপাতালে কাতরাচ্ছে, তাদের পাশে দাড়ানো,চতুর্থ কাজ হচ্ছে, আগামীর বাংলাদেশ বির্নিমানে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া। এটাই আমাদের রাজনীতি। দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, আমি পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শন করে আসছে। পা হারা মানুষের আর্তনাদ দেখে এসেছি। যাদের কৃত্রিম পা সংযোজন করার প্রয়োজন হবে, আমরা সেই দায়িত্ব নেয়ার ঘোষনা দিয়ে এসেছি।
তিনি বলেন, এতো রক্তের বিনিময়ে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু লুটতরাজ, জমি দখল, চাদাবাজী, অফিস দখল যারা করছে, তারা এই স্বাধীনতার শত্রু। কেউ তাদের সুযোগ দিবেন না। যে কোন মূল্যে প্রতিহত করুন। তিনি বলেন, কারো সম্পদ নিয়ে টানাটানি কাপুরুষতা। পলায়নপর কোন ব্যক্তির সম্পদ কেন নিতে হবে? তিনি উল্লেখ করেন, বিচারাঙ্গনে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হলে সকল অপরাধির বিচার হবে। কেউ পার পাবেননা।
মোবারক হোসেন বলেন, দেশকে বাচানোর জন্য, বৈষম্য মুক্ত ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য যারা শহীদ হয়েছেন, আল্লাহ যেন তাদের পরিবারকে সবর করার তৌফিক দান করুন। যারা শহীদ হয়েছে, তাদের বিচার এই দেশে হবে, ইনশাআল্লাহ।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন কুরআনের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, যারা শহীদ হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা তাদের মৃত বলতে নিষেধ করেছেন। শহীদরা আমাদের সাথেই আছেন। কেয়ামতের দিন তারা তাদের স্বজনদের জান্নাতে নিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, দুনিয়াতে সবাইকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। কিন্তু জাতীয় মুক্তির জন্য জীবন দেয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। তিনি বলেন, যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিচার হবে। এই ধরনের জুলুম আর চলবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে চুড়ান্তভাবে ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের অনুভুতি ব্যক্ত করেন। এ সময় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। শহীদ হওয়ার সময়ের ঘটনা যখন তাদের স্বজনরা বর্ননা করছিলেন, তখন সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন শহীদ আসিফ ইকবালের পিতা, শহীদ রোস্তমের বোন, শহীদ মনিরুল ইসলামের মেয়ে চাদনী প্রমুখ। পরে আমীরে জামায়াত প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে সংগঠনের পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ডা.ফখরুদ্দিন মানিক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি লস্কর মুহাম্মদ তাসলিম, মহানগরী জামায়াতের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, কর্মপরিষদ সদস্য শহিদুল্লাহ,শাহ আলম তুহিন,শিবির সভাপতি সালাহ উদ্দিন প্রমুখ।