কাফরুলে কেন্দ্রীয় মন্দির পরিদর্শনে জামায়াত

বিকেলে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান কাফরুলে কেন্দ্রীয় মন্দির, ঢাকা মহানগরী উত্তর, পরিদর্শণ করেন। এ সময় মন্দিরের ব্যবস্থাপনা কমিটি, পুরোহিত, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্দিরের সভাপতি বাবু তপনেন্দ্র নারায়ন হোড় এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বাবু হরিপদ দাস দোলনের সঞ্চালনায়
সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা, সেক্রেটারি ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ডা.ফখরুদ্দিন মানিক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি লস্কর মুহাম্মদ তাসলিম, ঢাকা মহানগরী উত্তরেরপ্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।

হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাবু মনোজ সরকার, বাবু শিব শংকর সাহা,বাবু -নিথীশ কুমার সাহা,
ডাক্তার বিপ্লব বিজয়ী হালদার প্রমুখ।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি কথা এটার কবর রচনা হোক। এটা আমি চাই; সেটা হচ্ছে সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু। এ দেশের সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। আমাদের সকল ধর্মের মানুষ হাতে হাত মিলিয়ে এখন থেকে আমরা আওয়াজ তুলবো আমরা এখানে সংখ্যাগুরুও নই আমরা কেউ এখানে সংখ্যালঘুও নই। আমরা সকলেই সমান।

জামায়াত আমির বলেন, ধর্ম বর্ণ দল সব কিছু নিচে আমার কাছে মানবতা উপরে। আমাদের এক নম্বর পরিচয় আমরা মানুষ, আমাদের দুই নম্বর পরিচয় এখানে যাদেরই আমাদের জন্ম হয়েছে আমরা সবাই বাংলাদেশী। একজন বাংলাদেশী নাগরিককে আমার দেশের সংবিধান যে অধিকার দিয়েছে সকল ধর্মের নাগরিক ইন্ডিভিউজিয়াল (স্বতন্ত্র ব্যক্তি) নাগরিক সমানভাবে তা ভোগ করবে। আমরা তার কমবেশি দেখতে চাই না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মেধা যোগ্যতার ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশের দায়িত্ব পালন করবে এদেশের তরুণ সমাজ। এইখানেও আমরা কোনো ব্যবধান বরদাশত করবো না।

জামায়াত আমির বলেন, একটি কথা এটার কবর রচনা হোক। এটা আমি চাই; সেটা হচ্ছে সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু। এ দেশের সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। একটা স্লোগান দিয়ে আমাদের মধ্যে হিংসা-হানাহানি এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা হয়েছে যুগের পর যুগ। আমাদের সকল ধর্মের মানুষ হাতে হাত মিলিয়ে এখন আমরা আওয়াজ তুলবো আমরা এখানে সংখ্যাগুরুও নই আমরা কেউ এখানে সংখ্যালঘুও নই। আমরা সকেলেই সমান।

ডা. শফিক বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই আমার এই বন্ধু; তিনি বলেছেন কোথাও জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে লুটতরাজ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, চাদাবাজির কোনো অভিযোগ উনি জানেন না। আমি বলবো আপনি জানেন না ভালো; কিন্তু যদি কোথাও জানেন আমাকে একটু বলবেন। আমরা কি করি একটু দেখেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই ধরনের কোনো অসমতা করাকে দুর্বৃত্ব করাকে প্রশ্রয় দেই না। কাজেই এই কাজের জন্য আমাদের কাউকে বহিষ্কার করারও প্রয়োজন হয় না। যেহেতু এখানে তৈরিই হয় না এমন কিছু, বহিষ্কার করবো কেনো? দরকার তো নেই আমার।

জামায়াত আমীর বলেন, এই আঙিনাকে আমরা পরিচ্ছন্ন রাখতে চাই। আমি শুধু আমাদের কথা বলছি না। আমি বলবো যারাই রাজনীতি করেন মেহেরবানী করে একটা রাজকীয় মন নিয়ে আসেন। ফকিরের মন নিয়ে রাজনীতে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। আপনি রাজনীতি করবেন; আপনি একজন ভিক্ষুকের সন্তান হতে পারেন; কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু মনটা আপনার হতে হবে রাজকীয় মন।
তিনি বলেন, আপনি সমস্ত মানুষকে ধারন করবেন। আপনি আত্মাকে বাদ দিয়ে বাকি সবাইকে শ্রদ্ধা করবেন। আপনি আত্মাকেসহ সবাইকে ভালোবাসবেন। তখনই আপনার জন্য রাজনীতি করা মানায়। আর রাজনীতির নামে লুটপাট, নিজের কপাল-কিসমত গড়া আর দুইদিন দশদিন পরে বলবেন যে আমার দেশ এখন সোনালী যুগে পদার্পন করেছে আর এই কথা শুনতে চাইনা। এই কথা শুনতে শুনতে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি।

ডা. শফিক বলেন, আগে আপনি সোনার মানুষ হন, তারপর আমার সোনার দেশ হয়ে যাবে। আমি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে অনুরোধ করবো, আসুন আমরা পরস্পরকে ভাই এবং বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করি। তাহলে হিংসে এবং হানাহানি থাকবে না। আর কয়দিন পরপর এখানে এসে এসে পাহারা দিতে হবে না। আমার বিবেক আমাকে পাহারা দিবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো ধর্ম কাউকে দুবৃত্ব হতে শেখায় না। হিংসা, প্রতিহিংসা শেখায় না, আমি তা বিশ্বাস করিনা। এ রকম যদি কেউ হয় তাহলে ধর্মই না। ধর্ম মানুষকে পরিশীলিত করে। ধর্ম মানুষকে মানুষ বানায়। মানুষকে পশু বানায় না। বরং পাশবিক চরিত্র যাদের আছে তাদেরকেও মনুষত্যের দিকে নিয়ে আসে।

জামায়াত আমির বলেন, আসুন হাতে হাত মেলাই, দেখানোর জন্য না অন্তরে ধারন করি। মুনাফিকের হাত নয়, ভালো মানুষের হাত মেলাই যেই হাত ভাংবে কিন্তু ছুটবে না। লেগে থাকবে একে অন্যের সাথে। যদি কোনো দুঃখ আসে তাহলে সকলে মিলে এই দুঃখ বরণ করে নিবো, যদি কোনো সুখ আসে তাও ভাগাভাগি করে নিবো সুখ-দুঃখের আমরা সমান অংশীদার হব।

তিনি বলেন, আমরা সত্যিকারের একটি সম্প্রীতির আওয়াজ যেমন তুলি, মুখে আওয়াজের দরকার নাই, বাস্তবেই প্রমাণ করি যে এই বাংলাদেশ সম্প্রীতির বাংলাদেশ।

ডা. শফিক বলেন, আমাকে একটা ফুলের তোড়া দিয়েছিলেন, আমি অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। আমি তোড়াটা হাতে নিয়ে বলেছিলাম-আমি এটা উৎসর্গ করলাম সম্প্রীতির বাংলাদেশের জন্য। আসুন একটা সম্প্রীতির বাংলাদেশ, সত্যিকারের অর্থে আমরা হাতে হাত মিলে গড়ে তুলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *