লেগুনা (হিউম্যান হলার) গুলো দিনে ৬শ’ থেকে একহাজার টাকা চাঁদা দিয়ে কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করেই বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে মিরপুর-২ নাম্বার থেকে আগারগাঁও রেডিও স্টেশন হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত।
মিরপুর -২ হতে আগারগাঁও রেডিও স্টেশন পর্যন্ত যারা চলাচল করেন তাদের দিতেহয় ৬শ’ টাকা, আর যারা মিরপুর-২ নাম্বার থেকে আগারগাঁও রেডিও স্টেশন হয়ে ফার্মগেটে যান তাদের দিতেহয় একহাজার টাকা। একশত টাকা স্থানীয় শ্রমিক লীগকে এবং পাঁচশ’ থেকে একহাজার টাকা দিতেহয়, মালিকদের সংগঠন ইন্দিরা বা ডিজিটাল সিটি পরিবহণকে ।
মিরপুর হতে আগারগাঁও রেডিও স্টেশন রাস্তাটি জ্যামজট লেগেই থাকে। এই রোডের উভয় মাথায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। সংক্ষেপে যাতায়াত করার জন্য অনেকেই এই রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকেন। কিন্ত সড়কটি চলচলের অনুপযোগী করে ফেলেছে বেপরোয়া ভাবে চলাচল করা অবৈধ লেগুনা (হিউম্যান হলার)। কোন সময় রেষারেষি করে বেপরোয়া গতিতে চলাচল, আবার কোন সময় সিন্ডিকেট করে রাস্তা বন্ধ করে যাত্রীর জন্য দাড়িয়ে থাকা, ফলে সড়কটিতে জ্যামজট লেগেই থাকে।
স্থানীয়রা বলছেন প্রভাবশালীদের বড় অঙ্কের চাঁদা দিয়ে কোন নিয়মের তোয়াক্কাই করেন না তারা। তাদের বেপরোয়া চলাফেরায় কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও কিছুই বলেন না তাদের, চাঁদার একটা অংশ তাদের পকেটেও যায়। বড় অঙ্কের চাঁদার টাকা উঠাতে জোরজবরদস্তির করে কাটা হয় যাত্রীদের পকেট, যখন খুশি ভাড়া বাড়িয়ে প্রভাবশালীদের সাক্ষরিত চাট ঝুলিয়ে দেয়া হয়। নাজমুল নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন একবছরে চার থেকে পাঁচবার ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। অথচ সরকারি আাইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া নেয়ার কথা, কিন্ত তারা তো তা নেনইনা উল্টো তাঁদের দাবি অনুযায়ী ১২ টাকা ভাড়া থেকে ১০ টাকা দিতে চাইলে অশ্রব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। ঐ শিক্ষার্থী বলেন আমি মনিপুর স্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়ি, আমার নিয়মিত যাতায়াত করতেহয় স্কুলে কিন্ত জিম্মি হয়ে পড়েছি লেগুনা চালকদের কাছে। তাদের বেপরোয়া চলাফেয়ায় আতংকে থাকি সবসময়।
অভিযোগের বিষয় গুলো নিয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চালক বলছিলেন আমাদের বাধ্য হয়ে ভাড়া নিয়ে কড়াকড়ি করতে হয়। কারণ দিনে বড় অঙ্কের চাঁদা এবং গাড়ির মালিকের জমা বাবদ দিয়ে আর তেমন কিছু থাকেনা, আমরা চলবো কি করে! দিনে এতোগুলা টাকা চাঁদা না দিতে হলে আমাদের নামে কোন অভিযোগ থাকতোনা।
ডিজিটাল সিটি পরিহনের মালিক দেলোয়ার হোসেন চুন্নুর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি একহাজার টাকা চাঁদার কথা একবারেই এড়িয়ে গেলেন। পাল্টা অভিযোগ করে বল্লেন শ্রমিক লীগ নেতা শামসু, প্রতিদিন একশ’ত টাকা করে চাঁদানেন চালকদের থেকে, এটা গাড়ীর মালিক বা চালকদের উপর জুলুম। একশ টাকা নেয়া জুলুম হলে একহাজার টাকা চাঁদা নেয়া কি চালকদের সাথে ইনসাফ করাহয়? এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি চুন্নু মিয়া।
স্থানীয় শ্রমিকলীগ নেতা শামসুর প্রটোকল ডিঙিয়ে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। মুঠোফোনে কথা বলেছেন রফিক নামকরে একজন যিনি মাসল পাওয়ার ব্যবহার করে চালকদের থেকে টাকা আদায় করেন, তার পরিচয় বলতে গিয়ে এমনটা বলছিলেন এক চালক।
রফিক যুগান্তরকে প্রভাব খাঁটিয়ে বল্লেন আমরা শাহজাহান খানের কথায় চলি। আমরা মাত্র একশ টাকা নেই কিন্ত চুন্নি মিয়া একহাজার টাকা নেন ধরলে তাকে গিয়ে ধরেন।
সরজমিনে ঘুরে দেখাযায় ৬০ফিট পাবনা গলিতে একজন চালকের গাড়ির চাবি নিয়ে রেখেছেন ইমু নামকরে যিনি শ্রমিকলীগ নেতার নামে একশত টাকা চাঁদাউঠান, জানতে চাইলে ইমু বলেন সকাল থেকে গড়িমসি করছে টাকা দিতে। চালক অভিযোগ করে বলেন জোর যার মুল্লুক তার, আমি ১২ টার দিকে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে একটা চক্কর দিয়েছি বলেছি পরে টাকা দিবো এর মধ্যে আমার চাবি নিয়ে রেখেদিয়েছেন।
এই সংবাদের তথ্য সংগ্রহ করতে বেরহলে কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসে সাপ, শুধুমাত্র এই একটি রোড থেকে বছরে কোটি টাকা চাঁদা তুলেন চুন্নু এবং শ্রমিক লীগনেতার গংরা। এছাড়াও এই টাকা চলেযায় স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা থেকে শুরুকরে মন্ত্রীদের পকেট পর্যন্ত। বছরের পর বছর ধরে চলছে এই চাঁদাবাজি থামানোর যেন কেও নেই। রক্ষক যখন ভক্ষক তখন থামাবেন ও বা কে!
বছরে কোটি টাকা চাঁদাবাজির বেপারে, তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকারকে একাধিক বার ফোন করেও পাওয়া যায়নি তাকে।