জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে দেশজুড়ে ভোগান্তি, কারণ জানা যায়নি

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে মঙ্গলবার ছয় ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎহীন ছিল ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো। কিন্তু রাত ১২টার সময়েও দেশের অনেক এলাকায় বিদ্যুৎহীন ছিল বলে জানা যাচ্ছে।

জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর একটা পর্যায়ে পুরো দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে এসব জেলার মানুষ ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন।

এক মাসের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয়বারের মতো দেশে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটলো। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর একবার গ্রিড বিপর্যয় হয়েছিল। তখন কুষ্টিয়া, যশোরসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো প্রায় দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, যমুনা সেতুর পূর্ব পাশের ন্যাশনাল গ্রিডে দুপুর ২টা ৫ মিনিটে বিপর্যয় হয়েছে। এর ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় একটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে এমন একটি সময়ে যখন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা চলছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় পূজা মণ্ডপগুলোয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়।

, জাতীয় গ্রিডে কী কারণে এই বিপর্যয় – তা জানার জন্য দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে রাত ৯টার মধ্যে গ্রিড রিস্টোর করা সম্ভব হয়েছে। এখনো অল্প কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ আসেনি বা স্বল্প সময়ের জন্য এসেছিল- সে সব এলাকার গ্রাহকগণ আরেকটু ধৈর্য্য ধরুন। ধীরে ধীরে লোড বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মূল সঙ্কট কেটে গেছে। দ্রুতই আপনারা বিদ্যুৎ পাবেন।’

তিনি আরো লিখেছেন, পূর্বাঞ্চলের বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, যেমন- ঘোড়াশাল, আশুগঞ্জ, মেঘনাঘাট, হরিপুর এবং সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু করে ধীরে ধীরে সিস্টেম স্বাভাবিক করা হচ্ছে। ঢাকায় ২৩০০ মেগাওয়াটের বিপরীতে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ১৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা একেবারে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, ঘোড়াশালে গ্রিড বা বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো একটি লাইন ট্রিপ করেছে। সে লাইনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে অন্য লাইন ওভারলোড হয়ে সেটা ট্রিপ করেছে। এর ফলে পূর্বাঞ্চলের গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বল্পতা দেখা দেয়।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমেই সারাদেশে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে এর আগে এ ধরনের বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছিল ২০১৭ সালের ৩ মে। সেইবার আকস্মিক গ্রিড বিপর্যয়ের পর উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমের ৩২টি জেলা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *