চোখ-হাত-পা হারানো ফিলিস্তিনি দুর্ধর্ষ কমান্ডারকে খুঁজছে গোটা ইসরায়েলি বাহিনী, জানা গেল কারণ

ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে হামাস বাহিনীর সামরিক শাখা আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের প্রধান মোহাম্মেদ দায়েফকে হন্যে হয়ে খুঁজছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী (এআইডি)। তাকে ঘিরে হামলা সাজিয়েছে তেলআবিব। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ই‌জরায়েলের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় রয়েছেন তিনি। এই হামলার পর নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ওই কমান্ডার। কারণ হামলার ঠিক আগে রেডিওতে প্রকাশিত ৫৮ বছর বয়সী দায়েফের কমান্ড শুনে ইসরায়েলের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে হাজারো যোদ্ধা।

ফিলিস্তিনি নাগরিক তিনি। গত বছর থেকে হামাসের সামরিক বাহিনীর প্রধান দায়েফ। বিভিন্ন হামলার মূল পরিকল্পনাকালী এই দায়েফ।

এখন আর তার শরীরে তেমন জোর না থাকলেও অপ্রতিরোধ্য মনোবল নিয়ে হামাসকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। হুইলচেয়ারে বসেই হামাস বাহিনীকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই কমান্ডার।

২০ বছর আগে ইসরায়েলের বিমান হামলায় কোনওক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন দেইফ। সেই হামলায় এক চোখ, এক হাত এবং দুই পা হারান তিনি। তারপর থেকে হুইলচেয়ারে বসেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ষাটের দশকে গাজায় খান ইউনূস নামের শরণার্থী শিবিরে জন্ম দায়েফের। জন্মের সময় দায়েফের নাম ছিল মোহম্মদ দিয়াব ইব্রাহিম আল-মাসরি। সেই সময় মিশরের দখলে ছিল গাজা। পরে দায়েফ নামে পরিচিতি পান তিনি। আরবিতে যার অর্থ ‘অতিথি’। গাজায় ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করতেন তিনি। ১৯৬৭ সালের জুন মাসে গাজার দখল নেয় ইসরায়েল।

গত শনিবার (৭ অক্টোবর) ইসরায়েলের ভূখণ্ডে যেখানে হামাস বাহিনী ঢুকে হামলা চালিয়েছে পঞ্চাশের দশকে দায়েফের বাবা, চাচারা সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সেই এলাকাতেই হানা দিয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই যুদ্ধের পরিবেশে বড় হয়ে উঠেন দায়েফ।

ইসরায়েলের দখলে ছিল পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকা। এর প্রতিবাদে বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল ফিলিস্তিনে। সেই সময় ১৯৮৭ সালে হামাসের জন্ম হয়। সেই সময় চালানো বিভিন্ন আত্মঘাতী হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে জেলে পাঠিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী।

গাজায় ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই হামাস বাহিনীর সঙ্গে পরিচয় ঘটে দায়েফের। সেই সময় ফিলিস্তিনের বহু স্বাধীনতাকামী নেতাদের সঙ্গে মুক্তি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন দায়েফ। এর পর ফিলিস্তিনির হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়েছেন দায়েফ। তার পর থেকেই দায়েফকে হন্যে হয়ে খুঁজছে ইসরায়েলের এক একটি সরকার।

বিভিন্ন সময় দায়েফকে হত্যার চেষ্টা করেছিল ইসরায়েল। কিন্তু ব্যর্থ হয়। কমপক্ষে পাঁচ থেকে সাতবার দায়েফকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাকে হত্যা করতে ২০১৪ সালে একটি বাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী সরকার। সেই হামলায় মৃত্যু হয় দায়েফের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের।

গত শনিবার সকালে ইসরায়েল ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে হামাস বাহিনী। এই প্রসঙ্গে দায়েফ বার্তা দিয়েছেন ১৬ বছর ধরে গাজাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ইসরায়েলের দখল ও অবরোধের জবাবে এই হামলা। এর পরপরই পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসরায়েলের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে হাজারো হামাস যোদ্ধা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *