করাচিতে মহাকাব্যিক ইনিংসে পাকিস্তানের ড্র

পাকিস্তান বনাম অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় টেস্টটি ড্র হলেও এদিন যেন করাচির ২২ গজে ফিরল ৮৩ বছরের পুরনো এক স্মৃতি। বাবর আজম, মহম্মদ রিজওয়ানদের ব্যাটে ভর করে এক বিরল নজিরের সাক্ষী থাকল বিশ্ব ক্রিকেট।

টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ২০০ বছরেরও বেশি সময়তে মাত্র ২ বার এমন বিরল ঘটনার সাক্ষী থেকেছে ২২ গজ। চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করে ১০০০ বলেরও বেশি খেলে টেস্ট ম্যাচ ড্র রাখতে পারার কৃতিত্ব অর্জনকারী দ্বিতীয় দল বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে করাচির ২২ গজে মাটি কামড়ে লড়াই করলেন বাবর আজমরা। চতুর্থ ইনিংসে শতরান করলেন দুই পাকিস্তানি ব্যাটার বাবর-রিজওয়ান। পাশাপাশি শফিকের ৯৬ রানে ভর করে পাকিস্তান অজিদের বিরুদ্ধে ১০০০’র ওপর বল খেলে এক অসম্ভব ড্র ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়। বিশ্ব ক্রিকেটে এই ঘটনা এর আগে আর মাত্র একবার ঘটেছে। ১৯৩৯ সালে ‘টাইমলেস’ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এই ঘটনা ঘটিয়েছিল ইংল্যান্ড দল। টানা ১০ দিন চলার পরেও সেই টেস্টের ফয়সালা হয়নি। জাহাজ ধরতে না পেরে দেশে ফেরা পিছিয়ে যেতে পারে সে কারণেই সেই টেস্ট ম্যাচ ১০ দিন খেলার পরে দেশে ফিরেছিলেন ইংল্যান্ড ক্রিকেটাররা।

রাওয়াপিন্ডিতে প্রথম টেস্ট ড্র হয়েছিল। তবে রাওয়ালপিন্ডির মতো নিষ্প্রাণ ছিল না করাচির টেস্টটি। পঞ্চম ও শেষ দিনে দেখা গেল, টেস্ট ক্রিকেট কতটা রোমাঞ্চকর হতে পারে!

প্রায় দুইদিনে ১৭২ ওভার ব্যাট করে টেস্ট বাঁচিয়েছে পাকিস্তান।
অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৫০৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান করেছে ৭ উইকেটে ৪৪৩ রান। শেষ দিনের শেষ ৮ ওভারে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৩ উইকেট। উইকেটে তখন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও নোমান আলী। দলীয় রান যখন ৭ উইকেটে ৪২৬, তখন ৯১ রানে থাকা রিজওয়ানের ক্যাচ ফেলে দেন উসমান খাজা। ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারলে ম্যাচের ফল অন্যকিছুও হতে পারতো।
এই রিজওয়ান ও নোমান আলীই দিনের বাকিটা সময় পার করে পাকিস্তানকে ড্র এনে দেন। রিজওয়ান ১৭৭ বলে ১০৪ রানে অপরাজিত থাকেন। নোমান আলী কোনো রান না করলেও খেলেন ১৮ বল। পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম ৪ রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি পাননি। তবে ৪২৫ বলে ১টি ছক্কা ও ২১টি চারের সাহায্যে ১৯৬ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতেই।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ন্যাথান লায়ন পেয়েছেন ৪টি উইকেট। এছাড়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের শিকার দুই উইকেট। প্রথম দুটি টেস্টই ড্র হওয়ায় দুদলের মধ্যকার তৃতীয় টেস্টটি সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পরিণত হয়েছে। ২১ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় ও শেষ টেস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *