‘গাজা’ যেন এক মৃত্যুপুরীর নাম

ইসরায়েলের প্রতিদিনকার হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা আগুনের গোলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই নিরীহ মানুষ মারা পড়ছে।
আহত বাড়ছে সমান তালে। বাড়ি-ঘর ধসে পড়ে আছে মাটিতে।
মানুষের নাওয়া-খাওয়া বন্ধ। শিশুরা নিচ্ছে বিষাক্ত শ্বাস।
গত শনিবার (২৮ অক্টোবর) আল জাজিরা তাদের লাইভ আপডেট প্রোগ্রামে গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আজও ফিলিস্তিনের ৩৭৭ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
খবরে বলা হয়, গাজার সর্বশেষ নিহতের সংখ্যাটি জানিয়েছেন গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা।
তিনি বলেন, প্রবল ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ গাজা আগুনের গোলায় পরিণত হয়েছে। আরও অন্তত ৩৭৭ ফিলিস্তিনি নির্ধারিত নিরাপদ এলাকায় প্রাণ হারিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, মেডিকেল দল ও অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে তুলেছে। আশরাফ আল-কুদরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন। ফিলিস্তিনের মেডিকেল শিক্ষার্থী ও অবসরপ্রাপ্ত নার্সদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় গাজার পরিবারগুলো তাদের সন্তান-সন্ততির হাতে পায়ে নাম লিখে রাখছেন। বিমান বা বোমা হামলায় যদি কেউ নিহত হয়, নামগুলো দেশে যেন তাদের সনাক্ত করা যায়, সে জন্যই বাবা-মায়েরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সারা আল-খালিদি নামে এক মা বলেন, এই শিশুদের সম্পর্কে বিশ্বকে জানা উচিত। তারা ইসরায়েল কর্তৃক খুন হয়েছে। তারা কোনো সংখ্যা নয়, তাদের নাম আছে। তাদের একেকজনের গল্প আছে। তারা গাজার বাসিন্দা ও ইসরায়েলি দখলদারিত্বের কারণে নিহত স্বপ্ন।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর অবিরাম আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েল। গাজা উপত্যকার আকাশে জেট ও সামরিক হেলিকপ্টারের চলাফেরা ও বিমান হামলা থামছে না। গতরাতেও গাজায় প্রচণ্ড হামলা চালায় ইসরায়েল। স্থানীয়রা বলছেন, শুক্রবার রাতে অবিরাম কিন্তু প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা আগে তারা শোনেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *