দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তিনি চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে মাইজভান্ডার দরবার শরিফের গাউছিয়া মঞ্জিলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরে দাঁড়ানোর এই ঘোষণা দেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (বিটিএফ) থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীসহ ৪২ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বিগত ১৮ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ফুলের মালা মার্কার সমর্থনে ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভা হয়েছে। এসময় বাগানবাজার থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ১৮টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার জনসাধারণের ভালোবাসা পেয়েছি। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১৪ দলীয় জোটনেত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মান জানিয়ে ও ফটিকছড়ির সার্বিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের কোনো অসুবিধা হতে পারে এমন কিছু করতে চাই না। নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফটিকছড়ি আসন থেকে সরে দাঁড়ালাম। দেশের অন্য আসনগুলোতে তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেবেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- তরিকত ফেডারেশনের নেতা সৈয়দ তৈয়বুল বশর মাইজভাণ্ডারী, মোহাম্মদ শাহজালাল, আলমগীর আলম, মওলানা কাজী নিজাম মোরশেদ প্রমুখ।
আওয়ামী লীগের শরিক দল হিসেবে তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ফটিকছড়িতে নির্বাচন করে আসছেন। নির্বাচন সামনে রেখে লিবারেল ইসলামিক জোট নামে ছয় দলের একটি জোটও গঠন করেছেন তিনি। নজিবুল বশর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে দল বদল করে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। একই বছরের ১২ জুনের নির্বাচনে নজিবুল পরাজিত হন। নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মরহুম রফিকুল আনোয়ার।
২০০১ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচন করে রফিকুলের কাছে আবার পরাজিত হন নজিবুল। এরপর বিএনপি ছেড়ে তিনি গঠন করেন তরীকত ফেডারেশন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক তরীকত ফেডারেশন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। ফটিকছড়ি থেকে মোট চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নজিবুল।