আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকার গঠনের একদফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন রয়েছে বিএনপিসহ ৩৭টি বিরোধী রাজনৈতিক দল। তারই অংশ হিসেবে আগামী ২৭ জুলাই রাজধানীতে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। বিএনপির সঙ্গে একই প্ল্যাটফর্মে আন্দোলন না করলেও তাদের মহাসমাবেশের পরদিন থেকে প্রায় একই দাবিতে দেশজুড়ে টানা ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সকালে দলের আমীর সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেওয়ার পর দুপুরেই পুলিশ হেডকোয়াটারে গিয়েছেন জামায়াতপন্থি কয়েকজন আইনজীবী।
সোমবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে আগামী ২৮ জুলাই সকল মহানগরীতে ও ৩০ জুলাই সকল জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল এবং ১ আগস্ট ঢাকা মহানগরীতে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এই ঘোষণার ৪ ঘণ্টার মাথায় পুলিশের অনুমতি চেয়ে আবেদন নিয়ে পুলিশ হেডকোয়াটারে পৌঁছান দলটির আইনজীবী নেতারা।
ঢাকা বার এসোসিয়েশনের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দীনের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন, সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসেসিয়েশনের সাবেক সহসভাপতি ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসেসিয়েশনের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি জালাল উদ্দিন, সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসেসিয়েশনের সহসম্পাদক খন্দকার রেজাউল করিম, ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম।
পুলিশ হেডকোয়াটার থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দীন। তিনি জানান, দেশজুড়ে জামায়াতের ঘোষিত তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি সম্পর্কে পুলিশকে জানিয়ে সহযোগিতা ও অনুমতি চাইতে এসেছিলেন তারা। তবে চিঠি গ্রহণ করলেও পুলিশের আইজিপির সঙ্গে কথা বলা যায়নি বলেও জানান তিনি।
অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দীন বলেন, আমার আবেদন দিয়েছি। পুলিশ গ্রহণ করেছে। আমাদের ইচ্ছা ছিল আইজিপির সঙ্গে দেখা করে কথা বলার। কিন্তু তিনি অফিসে না থাকায় পরবর্তিতে সময় নিয়ে আসতে বলেছেন।
এর আগে সকালে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমীর বলেন, আর ৫ মাস পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ। সরকার জনগণের এই দাবি বাস্তবায়নের পরিবর্তে ২০১৪ ও ২০১৮ স্টাইলে আবারও নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। এ লক্ষ্যে সরকার প্রশাসনকে ঢেলে সাজাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আরপিও সংশোধনের নামে কার্যত নির্বাচন কমিশনকে আরও আজ্ঞাবহ করে তুলছে। জামায়াতে ইসলামীকে সভা-সমাবেশ ও মিছিল করতে দেয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের নিকট বারবার লিখিতভাবে আবেদন জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন সভা-সমাবেশ বাস্তবায়নে সহযোগিতার পরিবর্তে সিলেট ও চট্টগ্রামে গ্রেফতার ও হয়রানি করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ দশ বছর পর রাজধানীতে গত ১০ জুন সমাবেশ করার অনুমতি পেলেও এর পর সিলেট ও চট্টগ্রামে সমাবেশ করতে একাধিকবার আবেদন করেও অনুমতি পায়নি জামায়াত।