আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা

আট মাসের সন্তানকে পানিতে ডুবিয়ে এবং স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন স্বামী জেবন দেব। হত্যার উদ্দেশ্যে স্ত্রী সন্তানকে কক্সবাজার নিয়ে এসেছিলেন তিনি। হত্যার পর বাকি দুই সন্তান নিয়ে পালিয়েছেন জেবিন।

গতকাল শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত মঙ্গলবার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কক্সবাজারে আসেন জেবিন।

এই হত্যাকাণ্ডে আজ শনিবার নিহত নারীর মামা প্রিয়রঞ্জন মামলা করেছেন। আজ বিকেল ৫টার দিকে কক্সবাজার মডেল থানা পুলিশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম। এর আগে আজ ভোররাতে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থেকে অভিযান চালিয়ে আসামি জেবিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত জেবিনের সংসারে। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে বিদেশে যান তিনি। সম্প্রতি দেশে বেড়াতে এসে স্ত্রীকে সন্দেহ করা শুরু করেন। এরই মধ্যে গেল ৭ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার আসেন জেবিন। এখানে বসে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনামতে স্ত্রী ও তিন সন্তানদের নিয়ে ‘ভালোবাসা দিবসে’ কক্সবাজার এসে কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকার সি আলিফ নামে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন।

তিনি আরও বলেন, ‘১৭ ফেব্রুয়ারি হোটেলে চেক আউট করার কথা ছিল তাদের। ওইদিন সকালে বড় দুই সন্তানকে নিয়ে হোটেলের নিচে নামেন জেবিন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবারও কক্ষে যান তিনি। ওই সময় স্ত্রীকে শ্বাসরুদ্ধ করে এবং শিশুকে বালতির পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে অপর দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান জেবিন।

জেবিন দেব চট্টগ্রামের বাঁশখালী বানীগ্রাম বৈলগাঁও এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ‘হত্যার পর পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্ত জেবিন দেবের অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার সহযোগিতায় নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিজানুর রহমান এবং ওসি রফিকুল ইসলাম।

১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কক্সবাজারের সি আলিফ হোটেল থেকে জেবিন দেবের স্ত্রী সুমা দেব ও তার আট মাসের শিশু অনামিকার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *