অডিও ফাঁস : ইবি উপাচার্যের কার্যালয়ে ফের তালা

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের কণ্ঠসদৃশ ফোনালাপের অডিও ফাঁসের জেরে ফের তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদের নেতাকর্মীরা।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দিয়ে চার ঘণ্টাব্যাপী আন্দোলন করেন তারা। এ সময় তারা উপাচার্যের অপসারণ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

গতকাল রোববার ‘মিসেস সালাম’ ও সোমবার ‘আল বিদা’ নামে দুটি ফেসবুক আইডি থেকে ফোনালাপের দুটি অডিও পোস্ট করা হয়। সেগুলোতে নিয়োগ বোর্ড, চাকরির প্রশ্নের বিষয়ে কথোপকথন, চাকরির বিনিময়ে আর্থিক লেনদেন ও শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে উপাচার্যকে কথা বলতে শোনা যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ‘ফারাহ জেবিন’ ও ‘মিসেস সালাম’ নামে আইডি থেকে পরপর উপাচার্যের পাঁচটি ফোনালাপের অডিও পোস্ট করা হয়। এ ঘটনায় গত শনিবার উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার কার্যালয়ে তালা লাগায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

সংগঠনটির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান টিটু বলেন, ‘ভিসি সবাইকে দুর্নীতি করে নিয়োগ দিচ্ছে। তিনি মাসের পর মাস ক্যাম্পাসে থাকেন না, বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করে দিচ্ছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা দিয়ে নিজের বাড়ি বানাচ্ছেন। তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সম্পর্কেও খারাপ মন্তব্য করেছেন। তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।’

বিক্ষোভের কারণে আজ সকাল থেকে প্রশাসন ভবন এলাকায় অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া প্রশাসনের নির্দেশে উপাচার্যের বাসভবন ও তার কার্যালয়ে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ।

এ সময় ইবি থানার ওসি আননূর যায়েদ বিপ্লব, গোয়েন্দা কর্মকর্তা নুরুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সেলিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক ভিসির বাসভবন ও কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের অনুরোধে তাদের কার্যালয়েও তল্লাশি চালানো হয়। কোথাও কোনো লুকায়িত ডিভাইস আছে কি না তা খুঁজে দেখতে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

ইবি থানার ওসি আননূর যায়েদ বিপ্লব বলেন, ‘প্রশাসনের নির্দেশনায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।’

উপাচার্য ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘আমার সহধর্মিণীসহ একাধিক নামে ফেক আইডি খুলে সেখান থেকে একান্তই ব্যক্তিগত আলাপ-আলোচনা সংযোজন-বিয়োজন করে সোশ্যাল ও অন্যান্য মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে। অথচ কথিত নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিতই হয়নি। পরীক্ষার ব্যাপারে কোনো প্রশ্নপত্রই প্রণীত হয়নি। ইউজিসি প্রয়োজনে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে।’

এ ছাড়া তিনি এমন কাল্পনিক প্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *