শতোর্ধ ভাষা সৈনিককে প্রজন্ম ২৬ মার্চের সম্মাননা প্রদান

ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুর অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা বি.এম. কলিমউল্লাহ সাহেবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত ও ক্রেস্ট তুলে দেন “প্রজন্ম ২৬ মার্চ” এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আরো উপস্থিত ছিলেন “প্রজন্ম ২৬ মার্চ” ঢাকা মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক আবরার আলম নাবিল। ছাত্রজীবন হতে বি.এম. কলিমউল্লাহ সাহেব কমিউনিস্ট রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন। একসময় কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো’র সদস্য ছিলেন তিনি। সেজন্য তিনি “কমরেড কলিমউল্লাহ ভুঁইয়া” নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন । স্থানীয়ভাবে তিনি কলিমউল্লাহ ভুঁইয়া নামে পরিচিত। আজ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় শতুর্ধো বয়সী এই প্রবীণ ভাষা সৈনিক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথে দেখতে গিয়েছিলেন “প্রজন্ম ২৬ মার্চের” কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং ঢাকা মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ।

ভাষা সৈনিক কলিম উল্লাহ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম। ১৯৫২ সালে জগন্নাথ কলেজ হতে তিনি গ্র‍্যাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করেন। ওই সময় ভাষা আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের প্রধান সহচর ছিলেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি চাঁদপুর অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয়দের মধ্যে একজন ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে হাজীগঞ্জ থানায় প্রবেশ করে সুকৌশলে তিনি পুলিশের অস্র কেড়ে নিয়ে নিজ অনুসারীদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন একটি সশস্ত্র গ্রুপ। এই গ্রুপ মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকে “কমরেড বাহিনী ” নামে পরিচিত ছিল।

১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সাপ্তাহে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে “চাঁদপুর মহকুমা সংগ্রাম ‘ কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির উদ্যোগে তৎকালীন সুবেদার জহিরুল হক পাঠানের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক ভাবে মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়। বেসামরিক নেতৃবৃন্দের সাথে সমঝোতাক্রমে কমরেড কলিমউল্লাহ’র গ্রুপ সুবেদার জহিরুল হক পাঠানের নেতৃত্বে গঠিত রেগুলার ফোর্সে’র সাথে একীভূত হয়। এতে রেগুলার ফোর্সের সাংগঠনিক কাঠামো ও শক্তি আরও মজবুত হয়। বেসামরিক নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতায় এই রেগুলার ফোর্স (মুক্তি ফৌজ) মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

এই বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব সামরিক অফিসারের হাতে থাকলেও যুদ্ধ পরিচালনা ও রণকৌশল নির্ধারনে বি.এম কলিমউল্লাহর সাথে পরামর্শ করা হতো। বি.এম কলিমউল্লাহ অনেক সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর তেজোদৃপ্ত সাংগঠনিক শক্তি ও অসীম সাহসিকতার গল্প আজও প্রবীণদের মুখে মুখে উচ্চারিত হয় শতবর্ষী এই ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে চাঁদপুর অঞ্চলের শীর্ষ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় তার নিজ বাড়ি পাক বাহিনী পুড়িয়ে দেয়।
শতবর্ষী এই ভাষা সৈনিক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘ হায়াত কামনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *