
আজ (২৩ আগস্ট ২০২৩) সকাল সাড়ে নয়টায় রাজধানীর শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম মিলনায়তনে ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে অদম্য মেধাবীদের মাঝে মেধাবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা।
শাখা সেক্রেটারি এইচএম সালাউদ্দিন মাহমুদের সঞ্চালনায় ও শাখা সভাপতি এমএ জামান ভূইঁয়ার পরিচালনায় উক্ত প্রোগ্রামটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান।
কেন্দ্রীয় সভাপতি অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন, “শহীদ আব্দুল মালেক ছিলেন অদম্য মেধাবীদের একজন। তাঁর জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে সেই পরীক্ষাই দিয়ে গেছেন। সারাটা জীবন কষ্ট করেছেন। আর্থিকভাবে খুবই অসচ্ছল একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বগুড়া জেলায় এই ক্ষণজন্মা নক্ষত্র আবির্ভূত হয়েছিল। জীবন যাপনের অতি প্রয়োজনীয় উপকরণ থেকেও তিনি ছিলেন বঞ্চিত। ক্ষুধার যন্ত্রণা, অমানুষিক পরিশ্রম কিংবা দুঃখ-কষ্টের দিনযাপন কোনো কিছুই পিচ্ছিল করতে পারেনি তাঁর চলার পথ। এসএসসি ও এইচএসসিতে মেধা তালিকায় স্থান আর ঢাবি সেরা ছাত্রের পোশাক বলতে ছিল একটি কমদামী সাদা পাজামা ও পাঞ্জাবী।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা অনেক মেধাবী। এদেশের শিক্ষার্থীরা বার বার বিভিন্ন পর্যায়ে ভালো ফল লাভের মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছে। বহু দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকলেও আল্লাহর রহমতে মেধা-সম্পদে আমরা এগিয়ে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী দারিদ্রতার কাছে হার মেনে অসময়ে ঝরে যায়। প্রতিবন্ধকতার কারণে তাদের মেধাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানো যায় না। পরিচর্যার অভাবে এসব মেধাবী শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত তাদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখলেও পরবর্তীতে আর এগিয়ে যেতে পারে না। তাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার জন্য সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসেনি। অথচ তাদেরকে সহযোগীতার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারলে তারাই দেশ ও জাতির কল্যাণে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে। এঅমূল্য সম্পদকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া চরম দূর্ভাগ্যজনক বিষয়। এই অবস্থায় আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ববান হতে হবে। এসব অদম্য মেধাবীদের দিকে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। অদম্য মেধাবীরা যেন সঠিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
তিনি সমবেত অদম্য মেধাবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমরা দেখিয়েছো কিভাবে প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে সামনে এগুতে হয়। তোমাদের এই চলার গতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ একদিন সোনার বাংলায় পরিণত হবে। আমাদের বিশ্বাস, দৃঢ়তার সাথে পথ চলে একদিন তোমরাই বাংলাদেশকে বদলে দেবে। যে পথ তোমরা পাড়ি দিয়েছো, তাতেই তৃপ্ত হবার সুযোগ নেই। দেশকে ভালোবেসে নিজেদের ক্যারিয়ার গঠনে তোমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে।”
মেধাবীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ছাত্রশিবির মেধাবীদের প্রিয় ঠিকানা। আমরা চাই তোমরা এই অর্জন ও মেধাকে যথাযথ বিকাশ ঘটিয়ে নিজেকে দেশ এবং জন্য যোগ্যতা সম্পন্ন করে গড়ে তোল। দেশ জাতি মানবতা ও সভ্যতার জন্য কল্যামূলক ভূমিকা পালন করো। ছাত্রশিবির অতিতেও অদম্য মেধাবীদের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ।
এসময় কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান উপস্থিত অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে মেধা বৃত্তি হিসেবে নগদ অর্থ ও শিক্ষা উপকরণ উপহার প্রদান করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি