জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতি- এ তিন মূলনীতিকে ধারণ করে ছাত্রদল গঠন করেন।
আশির দশকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের উল্লেখযোগ্য অবস্থান ছিল। নব্বইয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা এর পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও সামনের সারিতে দেখা গেছে সংগঠনটিকে। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপির বর্তমান ভোট বর্জন, অসহযোগ আন্দোলনসহ একদফা দাবিতে আন্দোলনেও ছাত্রদল সামনে থেকে ভূমিকা রেখে চলছে।
৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগ্রাম, সাফল্য-সম্ভাবনা কথা বলেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন নাছির, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, যুগ্ম সম্পাদক ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, এখনকার সময়টা অন্ধকারাচ্ছন্ন। আমরা প্রতিনিয়ত ফ্যাসিস্টদের আক্রমণে বিদ্ধ হচ্ছি। আমরা স্পষ্টতে বলতে চাই, মৃত্যুর উপত্যকায় দাঁড়িয়ে মুক্তির স্লোগান দেয়া সংগঠন ছাত্রদল। আজ দেশের স্বাধীনতা -সার্বভৌমত্ব অরক্ষিত আর গণতন্ত্র ভুলুন্ঠিত। এগুলোই পুনরুদ্ধারই এখন আমাদের প্রধান ও প্রথম কাজ। এইটা শেষ করে যখন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে, আমরা বিশ্বাস করি, এ দেশের আপামর শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আমরা নিশ্চিত করতে পারবো। সে লক্ষ্যেই আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ছাড়া আমাদের এই দুর্বার পথ চলা থামবে না। দেশের সকল সংকটের সমাধানে গণতন্ত্র। এই গণতন্ত্র আজ নেই। যেকোন কাজ করতে গণতন্ত্র মূল। শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই দুর্বার যাত্রায় আমরা বিজয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, এ প্রজন্মের ছাত্রদল আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আমাদের যে অভিভাবক সংগঠন বিএনপি দেখে আসিনি। এই ছাত্রসংগঠন আদর্শিক ও গণতন্ত্রের প্রয়োজনে নির্ভীক সৈনিক হিসেবে লড়ে যাচ্ছি আজ ১৭ বছর ধরে। সুতরাং এ প্রজন্মের ছাত্রদল সাচ্ছা ছাত্রদল, এবং নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা দল।
‘৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে আমি ছাত্রদলের সংগ্রাম, সাফল্য ও সম্ভাবনা দেখি। ফ্যাসিবাদের পতনের সম্ভাবনা দেখি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে’ এমন সম্ভাবনার কথা বলেন জুয়েল।
আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ময়দানে সরব উপস্থিতি যার, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে লালন ও ধারণ করে ছাত্রদল করছি। গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভীষণ অসুস্থ। আমাদের অভিভাবক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তাদের মুক্তির দাবিতে ছাত্রদল জোর আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এরা থামবে না। আপসহীন নেত্রী মুক্তি ও দেশনায়ক তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে থামবে ছাত্রদল। ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে দেশের মানুষের হারানো ভোটাধিকার, মানবাধিকার, গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত ছাত্রদলের লড়াই চলবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ছাত্রদল বদ্ধপরিকর। শেষ রক্তবিন্দু থাকা অবস্থায় আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। পিছু পা হবো না’।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, দেশের এই ক্লান্তি লগ্নে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এরফলে আমাদের ছাত্রদলের ছয়জনের বেশি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। গ্রেফতার, রিমান্ড, মামলা, হামলা দিয়ে গুরুত্বর পঙ্গু করা হচ্ছে পুলিশ ও রাষ্ট্র বাহিনী দিয়ে। সবাই বাড়ি ছাড়া ও ঘর ছাড়া, তারপরও আমরা ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি পালন করবো। সারাদেশে প্রতিবাদ রালি অনুষ্ঠিত হবে।
আগামীর প্রত্যাশা কেমন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবরের পর থেকে ২ মাসের বেশি সময় ধরে আমরা অবরোধ, হরতাল, অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে লিফলেট ও গণসংযোগ করে যাচ্ছে ছাত্রদল। এতে লক্ষণীয়ভাবে গ্রেফতার হয়েছে অনেক। অনেকে মারাত্মক আহত হয়েছে। তারপরও ছাত্রদল তার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই ডামি নির্বাচন হোক আর না হোক দেখার বিষয় না। যতোদিন এ দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হবে ততদিন ছাত্রদল রাজপথে থাকবে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, বাংলাদেশে যত পরিমাণ ছাত্রদলের নেতাকর্মী আছে, তারা প্রত্যেকে নির্যাতনের শিকার। তারমধ্যে থেকে এই দুর্দিনে অনেক এলাকায় পুনর্গঠন হয়েছে। এই দুঃসময়ে ছাত্রলীগের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার যুদ্ধে নেমেছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এটি চলমান থাকবে, ইনশাআল্লাহ।