জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে নিজের সার্টিফিকেট বাতিল চেয়ে ফেসবুক পোস্ট করেছেন ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২-১৩ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল-মারুফ, পোস্টটি সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েযায়।
পাঠকদের উদ্দেশ্য ফেসবুক পোস্ট টি সরাসরি তুলে ধরাহলো।
আমার সার্টিফিকেট বাতিল চাই !!!
২০১৩ সালের কথা। তখন আমি জগন্নাথের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। দেশের প্রচলিত আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে যাবজ্জীবন রায় হবার পরেও ফাঁসির আদেশের রায়ের প্রতিবাদে মিছিল থেকে আমাকে গ্রেফতার করা হল। সারাদেশের বিক্ষুব্ধ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়লো। অসংখ্য ব্যক্তি গ্রেফতার হল, রিমান্ডে নেওয়া হল, গুলি করে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া হলো অনেককে। আমাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হল। সে সময় আমি কারাগার থেকেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি।
ডির্পান্টমেন্টের কাছে কোর্টের নোটিশে পরীক্ষা স্থগিতের মত ঘটনা ঘটলো। আজ সেই একই কোর্ট আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাইদের ছাত্রত্ব বাতিল করতে চাইছে !! স্যকুলাস, সত্যিই স্যকুলাস !! আমার অর্নাস, মার্স্টাস আমাকে এটায় শিখিয়েছে সাদাকে সাদা বলো, কালোকে কালো। মাটি ও মানুষের অধিকার আদায়ের সোচ্চার হওয়াই আমার শিক্ষা। আমিও মনে প্রানে আমাদের অনুজদের ভেতরে এই শিক্ষাই জাগ্রত হোক সেটাই প্রত্যাশা করি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১১ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে! গত ২৪ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিলে অংশ নেয়। তারই ভিত্তিতে রাতের আধারে বাসায় তল্লাশি চালিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে গ্রেফতার করে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন বাছবিচার না করে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে এবং তারা সরকার বিরোধী মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে বলে অভিযোগ এনে ১১ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য প্রতিটা মানুষ নাভিশ্বাসের মধ্যে। এটার প্রতিবাদে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ব্যতীত প্রতিটা ছাত্র সংগঠন রাস্তায় মিছিল, সমাবেশ করছে। একারণে কি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এসব শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করে দিবে? আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুক্তি চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কারাদেশ বাতিল চাই, অন্যথায় আমার সার্টিফিকেট বাতিল চাই।