রাঙামাটিতে বন্যায় শুধু কৃষি খাতেই ক্ষতি ৪৪ কোটি টাকা

রাঙামাটিতে বেশ কিছুদিন ধরে চলমান টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে এখনো পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ২ হাজার ১০০ হেক্টর ফসলি জমি। এরমধ্যে বাঘাইছড়ি, লংগদু ও নানিয়ারচরে বেশি কৃষি জমি নষ্ট হয়েছে। যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৪৪ কোটি টাকা।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬টি জলকাপাট দিয়ে এক ফুট করে প্রতি সেকেন্ডে ১৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। হ্রদের পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল হলেও হ্রদে পানি আছে ১০৮ দশমিক ৬২ এমএসএল। পানি কমতে শুরু করলেও এখনো ডুবে আছে জেলার লংগদু, নানিয়ারচর, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ির বেশ কিছু গ্রাম। পানি সরতে শুরু করলেও এখনো নিচু অঞ্চলের বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে আছে।

রাঙামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তপন কুমার পাল জানান, এই বন্যায় জেলায় প্রায় ২ হাজার ১০০ হেক্টর ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১১ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আউশ, আম, গ্রীষ্মকালীন সবজি, আদা, হলুদসহ বেশকিছু ফসল। এতে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৪৪ কোটি টাকার মতো।

তিনি আরও জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১ হাজার ৩৪১, লংগদু ৩০৫, নানিয়চর ১২৬ দশমিক ৬, সদর ৯৭ দশমিক ৭৯, বরকল ৪৮, কাউখালী ৪৭, জুরাছড়ি ৪৭ দশমিক ২, বিলাইছড়ি ৪৪, কাপ্তাই ৪৩ হেক্টর ফসমি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানি কমে আসলে ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে বোর, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমুখী, সঙ্গে শীতকালীন সবজি হিসেবে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটোসহ আরও অনেক সবজি ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে আগাম ফসল চাষাবাদের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, পানি কমতে শুরু করলেও এখনো পানিবন্দি প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। ১০টি উপজেলায় ৯২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হলেও ৪৭ মেট্রিক টন বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *