১১ মে ঐতিহাসিক কোরআন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা।
আজ সকাল ১০.০০ টায় রাজধানীর শহীদ জসীমউদ্দিন হাওলাদার মিলনায়তনে ঐতিহাসিক কোরআন দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি কোরআন দিবসে শাহাদাত বরণকারী সকলকে স্মরণ করে বলেন, কোরআনের সংস্পর্শে এসে মানুষ অনেক দামি হয়েছে, আর সে কারণেই মানুষ আশরাফুল মাখলুকাতের আসনে সমাসীন হয়েছে। হযরত ওমর (রা) এর মতো ইসলামবিদ্বেষী ব্যক্তি কোরআনের সৈনিক হয়ে নিজের জীবনকে আল্লাহর রঙে রঙিন করেছেন, দ্বীনের ঝাণ্ডা হাতে তুলে নিয়ে দ্বীনকে বিজয়ী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আবার হযরত বেলাল (রা) এর মতো কৃতদাস মর্যাদার আসনে সমাসীন হয়েছেন।
সূরা হাশরের ৭ নম্বর আয়াত থেকে উদ্ধৃতি করে সভাপতি আরো বলেন, “রাসূল (সা) তোমাদের জন্য যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করো এবং যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক। আর আল্লাহ তা’য়ালাকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।” এসব আহ্বান যাদের কাছে অসহ্য মনে হয়েছে তারাই কোরআনের বিরুদ্ধে নানাভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। তারা নানা ধরনের বাধা প্রদানের মাধ্যমে তাদের গাত্রদাহের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্ত হচ্ছে তিনি যে কোনো মূল্যে তিনি তাঁর দ্বীনের আওয়াজকে বুলন্দ করবেন। আল্লাহ তায়ালা সূরা সফের ৮ নম্বর আয়াতে বলেন, “এরা (কাফেররা) তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, অথচ আল্লাহর ফয়সালা হলো তিনি তার নূরকে প্রজ্বলিত করবেন।”
১৯৮৫ সালের ১০ এপ্রিল কোরআন বাজেয়াপ্ত করার ঘৃণ্য আবেদন করে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। এ ঘটনায় বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়ে সারা মুসলিম জাহানে। বাংলাদেশেও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। কোরআনের মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে হাসিমুখে জীবন দেন অনেকে। এখনো কোরআনের মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন থেমে নেই, থেমে নেই বাধাও। মর্যাদা রক্ষার তাগিদে জীবন বিসর্জন দিচ্ছেন অনেকে। কোরআনের অবমাননার প্রতিবাদ চলবে ততদিন, যতদিন আল্লাহর গোলামরা বেঁচে থাকবে। এজন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় শিবিরকে সদা তৎপর থাকতে হবে।”
উল্লেখ্য ভারতের কলকাতা হাইকোর্টে দায়েরকৃত কোরআন বাজেয়াপ্ত মামলার প্রতিবাদে ১৯৮৫ সালের ১১ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিমতলা ঈদগাহ ময়দানে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লার নির্দেশে মিছিলে নির্বিচার গুলি চালানো হয়। এতে ০৫ জন ছাত্রসহ মোট ০৮ জন কুরআনপ্রেমী শাহাদাত বরণ করেন। তারা হলেন শহীদ আব্দুল মতিন (সাথীপ্রার্থী), শহীদ রাশিদুল হক (কর্মী), শহীদ শীষ মোহাম্মদ (কর্মী), শহীদ সেলিম (সমর্থক), শহীদ শাহাবুদ্দিন (সমর্থক), শহীদ আলতাফুর রহমান (কৃষক), শহীদ মোক্তার হোসেন (রিকশাচালক) ও শহীদ নজরুল ইসলাম (রেলশ্রমিক)। কোরআনের মর্যাদা রক্ষায় প্রাণ দিয়ে বিরল নজির স্থাপন করায় তাদের শাহাদাতের ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এই দিনটিকে সেই সময় থেকেই ‘কোরআন দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।
ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার শতাধিক সদস্যদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকারী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সঞ্চালনা করেন শাখা সেক্রেটারি মু. আসাদুজ্জামান।