শরীরে ভাল স্পর্শ কিংবা খারাপ স্পর্শ কিভাবে বুঝবে শিশুরা, ক্লাসরুমে সেটিই শেখাচ্ছেন শিক্ষিকা। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয় বরং হাতে-কলমে শেখাচ্ছেন তিনি। ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের শরীরের বিভিন্ন অংশ স্পর্শ করে তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন, কোনটা ভালো স্পর্শ আর কোনটা খারাপ স্পর্শ! আর প্রত্যেকটি শিশু শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষিকার প্রশ্নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উত্তরও দিচ্ছে। কখনও একত্রে চেঁচিয়ে উঠছে , বাজে স্পর্শ।
কখনও আবার বলছে, ভালো স্পর্শ! শিক্ষিকা রীতিমতো সতর্ক করেও দিচ্ছেন বাচ্চাদের।
এমন আলোচিত শিক্ষাদানের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে অনলাইনে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষিকা শিশু শিক্ষার্থীদের বলছেন, ‘যদি কোনো আঙ্কেল এ ধরনের আপত্তিকর স্পর্শকে ভালো স্পর্শ বলে দাবিও করেন, তাহলে যেন বাচ্চারা তার যোগ্য জবাব দিতে পারে। শিক্ষিকার এমন হাতে কলমে পাঠে নিজেদের শরীরে ভালো-খারাপ স্পর্শের পার্থক্যের প্রতিটি প্রশ্নে সঠিক উত্তর দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
নিরাশ করেননি সেই শিক্ষিকাকে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন সেই শিক্ষিকা। এরকম শিক্ষিকা বিখ্যাত হওয়া দরকার বা উচিত বলে মতামত দিচ্ছেন নেটিজেনরা। প্রতিটি স্কুলে এমন শিক্ষিকা প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন অনেকে।
দীর্ঘ সময়কাল ধরেই সংবাদের শিরোনামে উঠে আসে ছোট ছোট শিশুদের যৌন নির্যাতন বা শিশুদের শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার ঘটনা। কখনও স্কুলবাসে, কখনও স্কুলের ফাঁকা ক্লাসরুমে, কখনও বাড়িতে, কখনও পাড়ায়, কখনও বা অন্যত্র অভদ্রতার শিকার হতে হয় শিশুদের।
এই ধরনের ঘটনা যত সামনে এসেছে, ততই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে ভালো স্পর্শ-খারাপ স্পর্শের পাঠ। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সেক্স এডুকেশনের প্রয়োজনীয়তাও। এমন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এই ভিডিও সকলের মন জয় করেছে।
শিক্ষিকার প্রশংসা করছেন সকলে। তবে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই ধরনের পাঠ ছোটকাল থেকেই একটি শিশুর মস্তিস্কে এমন প্রভাব ফেলতে পারে যা ভবিষ্যতে তার চলার পথে কিংবা সামাজিকভাবে পুরুষ সঙ্গীর ক্ষেত্রে মেলামেশায় বৈষম্য তৈরি করতে পারে।