ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নরসিংদীর শহীদ পরিবারের সাথে আমীরে জামায়াত এর মতবিনিময়
শহীদদের রক্তের বিনিময়ে দেশে একটি ইনসাফপূর্ণ সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে
-Dr. Shafiqur Rahman
এক ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় হয়েছে। দেশের মানুষ মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস ফেলছে। সরকারের দীর্ঘ অপশাসনে দেশের মানুষ ক্লান্ত ছিল। আজ তারা মুক্তি পেয়েছে। এই মুক্তির পেছনে দেশের তরুণ সমাজ দ্বিধাহীন চিত্তে রক্ত ঢেলে দিয়েছে। জীবনকে মূল্যহীন করে দেশের জন্য লড়ছে। তাদের মূল্য আমরা দিতে পারবো না। তবে তাদের রক্তের বিনিময়েই এই দেশে একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। যেখানে প্রত্যেকের অধিকার স্বীকার করা হবে। যেখানে কোনো হাহাকার থাকবে না। শোষণ থাকবে না। দুর্নীতি, লুটপাটের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে না। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নরসিংদীর শহীদ পরিবারের সম্মানে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, এই তরুণদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। যে মা-বাবা এই তরুণদের জন্ম দিয়েছেন তারাও সৌভাগ্যবান। তাদের কারণেই আজ দেশের পটপরিবর্তন হয়েছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করব। এখন এসেছি, পরেও আমরা তাদের পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী সবসময়ই সোচ্চার। আজকে বিপ্লবোত্তর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ষড়যন্ত্র হচ্ছে দেশের বিরুদ্ধে। দেশের তরুণদের অর্জিত বিপ্লবের বিরুদ্ধে। জনগণকে সজাগ থেকে অর্জিত বিপ্লর সুফল না পাওয়া পর্যন্ত যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বানভাসী মানুষের জন্য তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের পানিতে আজকে আমরা ডুবে মরতেছি। হু হু করে পানি বাড়ছে। বানভাসীদের রক্ষায় প্রত্যেককেই মানবিকতার দিক থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

২৩ আগস্ট শুক্রবার নরসিংদী জেলা জামায়াত আয়োজিত জেলা আমীর মাওলানা মোছলেহুদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব সাইফুল আলম খান মিলন। আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বারসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
নরসিংদীর ১৯ জন শহীদের পরিবার মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন। আমীরে জামায়াত তাদের প্রত্যেকের সাথে কথা বলেন। তাদের সমস্যা শোনেন এবং তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রোগ্রাম শেষে আমীরে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রতি পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা করে নগদ আর্থিক সহাতা প্রদান করা হয়।