ঢাবিতে ভোক্তার মতবিনিময়

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন- ২০০৯ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)  শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) ঢাবির ব্যবসা শিক্ষা অনুষদ অডিটোরিয়ামে অনুষদের শিক্ষার্থীদের সাথে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অনুষদের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।

এছাড়াও সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এবং মূখ্য আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাকসুদ কামাল বলেন, আমরা ভোক্তা হিসাবে চাইবো ভোগ করতে। কিন্তু সেই খাদ্যে যদি থাকে কাপড়ের রং বা অন্য কোন বিষাক্ত কেমিক্যাল, তাহলে সেটা ভোক্তা স্বার্থের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। তাই  সেই খাদ্য যাতে ভোগের উপযুক্ত থাকে, সেই বিষয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের দায়িত্ব এবং তারা সেই কাজটাই করছে।

এসময়ে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা যদি ভোক্তা আইন সম্পর্কে জানো, তা যদি নিজেদের মধ্যে প্রয়োগ করো, তাহলে এটার সফলতা আসবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মীজানুর রহমান বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় নিজেদের প্রশংসা বাড়ানোর জন্য উৎপাদন বাড়িয়ে বললো, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানি করার জন্য উৎপাদন কমিয়ে বললো, এই ধরণের সমন্বয়হীনতার ধারা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। সারা বাংলাদেশে ভোক্তা অধিদপ্তরের লোকবল ২৭৪ জন। কিন্তু এই স্বল্প লোকবল দিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিতে সরকারকে এই বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

মূখ্য আলোচনায় সফিকুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে আমার একটা অধিকার আছে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ জানেন না- তাদের অধিকার কি? কিন্তু আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত ভোক্তাকে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে না পারবো, ততক্ষণ পর্যন্ত নকল-ভেজাল পণ্য ধরতে পারবো না। সেই কারণে আজকের এই সেমিনার। আমরা চাই তোমাদের মাধ্যমে দেশজুড়ে ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

সভাপতির বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ প্রনোয়নের সময় পত্যক্ষ ভাবে কাজ করেছিলাম। এ আইনের বিষয়ে দেশের বিভিন্ন যায়গায়, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা বলেছিলাম। এখন যদি এই বিষয়ে কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, আমরা সেই বিষয়ে সহযোগিতা করবো।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ-আলম সহ একাধিক কর্মকর্তা এবং বিভাগের শিক্ষকেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *