জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক সংবর্ধনা দিলো ছাত্রশিবির

২০২২ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা।

আজ (২৮ নভেম্বর) সোমবার দুপুর ২ টায় রাজধানীর এক মিলনায়তনে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রশিবির এ সংবর্ধনার আয়োজন করে। এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন শিবিরের ঢাকা মহানগর পশ্চিমের মিডিয়া বিভাগ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল রাজিবুর রহমান, এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে ফুলের স্টিক তুলে দেন এবং মিষ্টি খাওয়ায়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন এর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মু. আসাদুজ্জামান এর সঞ্চালনায় রাজিবুর রহমান বলেন, সৎ দক্ষ আদর্শ দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির জন্য মেধাবীদের মূল্যায়নের বিকল্প নেয়। যে জাতি মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে পারে না, সে জাতি কখনো সামনে অগ্রসর হতে পারে না। মেধাবীরাই জাতির প্রেরণার উৎস।

পলাশ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো আমরা রাজনৈতিক হানাহানিতে লিপ্ত। গড়ে উঠেনি জাতীয় ঐক্য। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হওয়ার পরও আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারছিনা। ১৭ কোটি মানুষকে নেতৃত্ব দেয়ার মত সৎ ও যোগ্য নেতার আজও বড় অভাব। নেতৃত্বের এই সংকট পূরণে মেধাবীদের সাথে নিয়ে ছাত্রশিবিরকেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশে অনেক সমস্যা থাকলেও আমি নিশ্চিত ভাবে বিশ্বাস করি আমাদের দেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেই। ছাত্রশিবির যেভাবে ছাত্রদের সততা, নৈতিকতা ও যোগ্যতার বিকাশে সহযোগিতা করছে তা সত্যিই আমাদেরকে আশার আলো দেখায়।

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মেধাবীদের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকেই ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা অদম্য মেধাবীদের সংবর্ধনার আয়োজন করেছে। মেধাবীদের ভাল রেজাল্ট করার পেছনে তাদের অভিভাববক ও শিক্ষকরা বিশেষ অবদান রেখেছেন। অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজকে শুধু ভাল রেজাল্ট নয়, ছাত্রদেরকে নৈতিক দিক থেকেও গড়ে তুলতে হবে।

উল্লেখ্য ২০২২ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখ থেকে শুরু হয় এবং তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হয় ১ অক্টোবর। চলতি বছরে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডসহ ১১টি শিক্ষাবোর্ডের আওতায় মোট ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে শুধু সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ জন। সারাদেশে ৩ হাজার ৭৯০টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ২৯ হাজার ৫৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা।

আজ (সোমবার) এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এসএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়েছে ২,৬৯,৬০২ জন। এর মধ্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ–৫ পেয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৩। চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হার ৮৮ দশমিক ১০। আর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ২২ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *