ইরানের হামলায় ধূলিসাৎ ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন রাডার: টিআরটি

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাডার সিস্টেম ইরানের হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতেই জর্ডানে স্থাপিত প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনার ফলে জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের সেন্টার অন মিলিটারি অ্যান্ড পলিটিক্যাল পাওয়ারের উপপরিচালক রায়ান ব্রোবস্ট ব্লুমবার্গকে বলেন, থাড রাডারের ওপর ইরানের এই হামলা এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে সফল হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের কাছে আরও রাডার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কভারেজ বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে এবং থাড রাডার হারানোর প্রভাব কিছুটা কমিয়ে আনা যেতে পারে।

স্যাটেলাইট ছবির বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরুতেই জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থায় ব্যবহৃত এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার এবং এর সহায়ক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে যায়। পরে এক মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানে ইরান দুটি হামলা চালায়— একটি ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং অন্যটি ৩ মার্চ। প্রথমদিকে উভয় হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানানো হলেও পরে রাডার ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

মার্কিন থাড ইউনিটগুলো বায়ুমণ্ডলের প্রান্তে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য তৈরি। এ কারণে প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির তুলনায় এটি বেশি জটিল ও দূরপাল্লার হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম। তবে এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার অচল হয়ে যাওয়ায় এখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরই বেশি নির্ভর করতে হবে।

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির হিসাব অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার (৬ মার্চ) দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অভিযানে সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা কিছু মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেখানে পাঠানো হতে পারে। এ বিষয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *