ইউনাইটেডকে হারিয়ে অপ্রতিরোধ্য লিভারপুল

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে হলে জয়ের বিকল্প ছিল না লিভারপুলের। অন্যদিকে সেরা চারের থাকতে হলে জয় চাই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেরও। এমন ম্যাচে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু লড়াই হলো একপেশে। হেসেখেলে ইউনাইটেডকে হারিয়ে শীর্ষে উঠল লিভারপুল।

অ্যানফিল্ডে মঙ্গলবার রাতে প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে লিভারপুল। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন মিশরীয় তারকা মোহামেদ সালাহ। এছাড়া একটি করে গোল পেয়েছেন লুইস দিয়াস ও সাদিও মানে। প্রথম লেগের ম্যাচেও ৫-০ গোলের বড় জয় পেয়েছিল অলরেডরা।

নবজাতক সন্তানের মৃত্যুতে এদিন দলে ছিলেন না নরউইচ সিটির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। গত মাসেও টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক পেয়েছিলেন এ পর্তুগিজ তারকা। তাকে ছাড়া ইউনাইটেডের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিতে পারেননি কেউই। পারেনি ন্যুনতম লড়াইটুকুও করতে।

এদিন ম্যাচে পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যায় লিভারপুল। মানের থ্রু পাস পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে দারুণ এক কাটব্যাক করেন সালাহ। গোলমুখে বল পেয়ে জোরাল শটে লক্ষ্যভেদ করেন কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড দিয়াস।

২২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। মানের নিখুঁত এক ক্রসে ডি-বক্সে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের প্লেসিং শটে বল জালে পাঠান সালাহ। ৩৫তম মিনিটে আবারও জালে বল পাঠান দিয়াস। তবে অফসাইডে থাকায় গোল মিলেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে গতি কিছুটা কমে আসে লিভারপুলের। সে সুযোগ অবশ্য কাজে লাগাতে পারেনি ইউনাইটেড। ৫৫তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট নিতে পারেন জ্যাডন সানচো। এর ১৩ মিনিট পর আরও একটি গোল হজম করে ইউনাইটেড। এবার গোল পান মানে। দিয়াসের কাছ থেকে বল পেয়ে জোরাল শটে লক্ষ্যভেদ করেন সেনেগালের ফরোয়ার্ড।

আর ৮৫তম মিনিটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন সালাহ। বাঁ প্রান্ত থেকে বদলি খেলোয়াড় দিয়োগো জটার থ্রু পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শট নেন তিনি। তবে ডিফেন্ডার অ্যারন ভ্যান-বিসাকার পায়ে লেগে গোলরক্ষক দাভিদ দি হেয়ার মাথার ওপর দিয়ে লক্ষ্যভেদ হয়।

এই হারে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেল ইউনাইটেডের। ৩৩ ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেল তারা। এক ম্যাচ কম খেলে শীর্ষে ওঠা লিভারপুলের পয়েন্ট ৭৬। ৩১ ম্যাচে সিটির সংগ্রহ ৭৪ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে আর্সেনাল। ৩০ ম্যাচে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে চেলসি। ৩২ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে টটেনহ্যাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *