অপকর্মকারী ছাত্রলীগ নেতাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে : কাদের

সম্প্রতি সময়ে ছাত্রলীগের অনেক নেতার নেতিবাচক কাজে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে পুরো সংগঠন। তবে, এসব নেতার লাগাম টেনে ধরতে সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা হওয়ার কথা ছিল না। কোথাও কোথাও লাগামহীন হয়ে গেছে। এদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। শেখ হাসিনার শক্তি সততার শক্তি, মেধা শক্তির। সততা ও মেধার সংশ্লেষণে স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট কর্মী আমরা গড়ে তুলব। অপকর্মকারী স্মার্ট কর্মী আমাদের দরকার নেই। শেখ হাসিনার মুক্তির সংগ্রাম বাস্তবায়নের সৈনিক হতে হবে। আবেগের নয় চেতনার সৈনিক।

আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্তৃক আয়োজিত আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ছাত্রলীগকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের এই কমিটি নেত্রী অনেক দেখেশুনে দিয়েছেন। যাদের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, সিট বাণিজ্যের মানসিকতা রয়েছে, তাদের পরিত্যাগ করতে হবে। অপকর্মের সঙ্গে জড়িত কাউকে নেতা বানানো যাবে না। ছাত্রলীগের কাছে আমাদের অনেক আশা, আমাদের নিরাশ করো না।

তিনি বলেন, যে কমিটি কাজ না করে চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ে ব্যস্ত ওই কমিটির কোনো প্রয়োজন নাই। এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। ভালো ছেলেমেয়ের সংগঠন থাকলে আরও ভালো ছেলেমেয়েরা সংগঠনে আসবে।

বিএনপি অবৈধ ব্যক্তির হাতে গড়া অবৈধ দল বলে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি অবৈধ ব্যক্তির হাতে গড়া অবৈধ দল, আর ফখরুল হচ্ছে সেই অবৈধ দলের অবৈধ মহাসচিব। বিএনপির একটি সংবিধান আছে। ওই সংবিধানের কোথায় আছে ফখরুল যে বারো বছর ধরে মহাসচিব। অথচ এর মধ্যে আমরা তিনবার সম্মেলন করেছি। তিনি যে পদত্যাগের দাবি করেন তার নিজের আগে পদত্যাগ করা উচিত।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই বিএনপির নেতারা নাস্তার টেবিলে বসে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে উৎখাত করার গল্প করে। খালেদা জিয়া নাকি দেশ চালাবে। বিএনপির আন্দোলন এখন চোরাবালিতে আটকে গেছে। সামনে পিছনে ডানে বামে কোন দিকে যায় না। তাদের আন্দোলন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আঁকা চিত্রকর্ম কাদায় পড়া গরুর গাড়ির মতো। আমরা নাকি গণতন্ত্র ধ্বংস করছি। গণতন্ত্রকে তোমরা কবর দিয়েছো। প্রহসনমূলক নির্বাচনে ভুয়া ভোটার তালিকা তৈরি করেছো। বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা করেছে, শেখ হাসিনা মেরামত করেছেন। তাদের হাতে এ দেশ আর যাবে না। তাদের আন্দোলন, পদযাত্রা, মিছিল, নেতা, ১০ দফা- সব ভুয়া।

জিয়াউর রহমান ইতিহাসকে বিকৃত করেছেন উল্লেখ ওবায়দুল কাদের বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্মৃতিকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য জিয়াউর রহমান এখানে পরিকল্পিতভাবে শিশুপার্ক করেছেন; এ ইতিহাস বাঙালি ভুলে যাবে না। ৭ মার্চ নিষিদ্ধ ছিল। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি নিষিদ্ধ, টুঙ্গিপাড়া নিষিদ্ধ, ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ ছিল। এ ভাষণ বাজানোর কারণে আমাদের অনেক কর্মীকে জেলে যেতে হয়েছিল। হ্যামলেটকে বাদ দিয়ে হ্যামলেট নাটক মঞ্চস্থ করেছেন জিয়াউর রহমান।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হঠাৎ করে বেরিয়ে আসা কোনো নেতা নয় অথবা স্বাধীনতার স্বপ্নে প্রদত্ত কোনো মহোৎসব নয়। আমাদের প্রেমপত্র লেখার মধ্য দিয়ে এ স্বাধীনতা আসেনি। আমাদের স্বাধীনতা এসেছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। মিত্র বাহিনীর সহযোগিতায় বাঙালি অস্ত্র হাতে নিয়ে সেদিন পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে লড়াই করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল।

ছাত্রলীগের উদ্দেশে নানক বলেন, সামনের ভোটে আমাদের জয়ী হতে হবে নতুবা আমাদের স্বাধীনতা বিপদসংকুল হয়ে যাবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারার কবর রচিত হবে। সেই কারণে ছাত্রলীগের বন্ধুরা আপনাদের অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করতে হবে। আগামী দিনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব এই হোক আমাদের প্রত্যয়।

আলোচনা সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সদস্য তারানা হালিম।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *