শিক্ষা দিবস পালন করলো ইসলামি ছাত্র শিবির

১৫ আগস্ট ঐতিহাসিক ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা।

আজ শুক্রবার সকাল ১০ টায় রাজধানীর শহীদ এমদাদুল্লাহ মিলনায়তনে শাখা সেক্রেটারি এইচএম সালাউদ্দিন মাহমুদের সঞ্চালনায় ও শাখা সভাপতি এমএ জামান ভূইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান।

কেন্দ্রীয় সভাপতি ইসলামী শিক্ষা দিবসে প্রেরণার বাতিঘর শহীদ আব্দুল মালেক ভাইয়ের শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করে বলেন, “শহীদ আব্দুল মালেক ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শহীদ আব্দুল মালেক! সেতো কোনো ব্যক্তির নাম নয়, একটি আন্দোলনের নাম। যে নাম ইসলামী আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীর হৃদয়ের মণিকোঠায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা। যে নাম বিপ্লবী সুর সৃষ্টি করে, স্পন্দন জাগায় হৃদয়ে হৃদয়ে, স্বপ্ন জাগায় হাজারো যুবকের মনে। মালেক আজ পৃথিবীতে নেই, তবে উদ্ভাসিত হয়ে আছেন হাজারো নক্ষত্রের মাঝে। রাসূল (সা.) আগমন পরবর্তী ইসলামী আন্দোলনের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করার ইতিহাস সূচনা হয় প্রথম মহিলা সাহাবী সুমাইয়া বিন খাবা (রা.) ও প্রথম পুরুষ সাহাবী হারিস ইবনে আবি খাওলা (রা.) এর শাহাদাতের মধ্যে দিয়ে। এই উপমহাদেশে ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের জন্য প্রথম প্রাণ উৎসর্গ করে শহীদ আব্দুল মালেক। সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী (র.) শহীদ আব্দুল মালেক ভাইকে স্মরণ করে বলেছিলেন, শহীদ আব্দুল মালেক এই উপমহাদেশে ইসলামী আন্দোলনের জন্য প্রথম শহীদ কিন্তু শেষ শহীদ নয়। তারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো শহীদ ফোরকান উদ্দিন (৫৬)। যিনি কুরআনের পাখি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাযায় অংশগ্রহণ করে গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন।”

শিক্ষা দিবসের আলোচনায় উপস্থিত কর্মী ভাইদেরকে  ইসলামী সাহিত্য অধ্যায়নে উৎসাহিত করতে গিয়ে বলেন, “ইয়াছির আদনান বলেছিলেন, আমরা তথাকথিত কিছু লেখকের বইয়ের কাভার ও ডিজাইন দেখে ফ্যান হবার অর্থ হলো আপনি জামায়াত-শিবিরের সাহিত্য পড়েন নাই অথবা পড়লে কিছুই বোঝেন নাই। বিরিয়ানি সাহিত্য পেয়ে কেউ চানাচুর সাহিত্যের ফ্যান থাকতে পারে না।”

রাজিবুর রহমান উপস্থিত সকলকে দারসুল কুরআনের জন্য “অমীয় শুধা” ও দারসুল হাদীসের জন্য “হেরার রশ্মি” বইটি পড়তে নির্দেশনা দেন।

তিনি আরো বলেন, “বর্তমান আমরা একটি কুরআন বিমুখী শিক্ষাব্যবস্থা দেখছি। এই শিক্ষাব্যবস্থায় আমাদের কুরআন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এই কুরআন বিমুখী শিক্ষাব্যবস্থার মোকাবিলায় আগামী প্রজম্মকে গড়ে তোলার জন্য নিজেদের বেশি বেশি কুরআন অভিমূখী হওয়া দরকার এবং ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রত্যেক জনশক্তিকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করা দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *