শিক্ষার্থীদের প্রতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির ৬ প্রস্তাব

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর পদত্যাগ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং আরেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো: মোরসেদ পদত্যাগ করেন।

২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম মুনীরকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ছয়টি প্রস্তাব রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ। তিনি বলেন, এসব প্রস্তাব স্বপ্নের দেশ গঠনে প্রয়োজন হবে।

বুধবার (৭ আগস্ট) নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ওই পোস্টে লিখেছেন, ‘বিচারপ্রার্থী মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, দলীয় রাজনীতির যাঁতাকলে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমানে কোনো দলীয় সরকার নেই।

‘তাই নতুন বাংলাদেশের কারিগর, সন্তানতুল্য ছাত্রছাত্রীদের জন্য দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারক হিসেবে কথাগুলো বলা আমার নৈতিক দায়িত্ব মনে করছি।

‘নিম্নে বর্ণিত কাজগুলো বাস্তবায়িত না হলে সুপ্রিম কোর্ট সব সময় বিতর্কিতই থেকে যাবে এবং তোমাদের স্বপ্নের দেশ গঠনে বড় বাধা হয়ে থাকবে বলে মনে করি।’

১. বিচারপতি নিয়োগে দলনিরপেক্ষ আইন প্রণয়ন করা;

২. হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ গঠনে প্রধান বিচারপতির একচ্ছত্র ক্ষমতায় চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের ব্যবস্থা রাখা;

৩. হাইকোর্ট বিভাগের জিএ কমিটি এবং জাজেজ কমিটি গঠনে প্রধান বিচারপতির একচ্ছত্র ক্ষমতায় লাগাম টানা;

৪. হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতার ব্যত্যয় ঘটিয়ে আপিল বিভাগে নিয়োগ সাংবিধানিকভাবে বন্ধ করা;

৫. একইভাবে আপিল বিভাগের বিচারকদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতার ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সাংবিধানিকভাবে বন্ধ করা;

৬. বিচারকদের দুর্নীতি ও পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধে বিচারক এবং সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সাংবিধানিক পদ্ধতি প্রণয়ন করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *