শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে রাজধানীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যানারে মানববন্ধন

স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে সমাবেশ, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি হয়েছে। এসব কর্মসূচি শেষে বক্তারা সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, স্বাস্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করে শীঘ্রই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া নাহলে অভিভাবকদের সাথে নিয়ে গণআন্দোলন গড়ে তুলব।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দাও, ব্যানারে ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানী মিরপুর মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করেন।

সমাবেশে অংশ নিয়ে, সরকারি বাংলা কলেজের ব্যানারে সাব্বির বিন হারুন বলেন, দেশের অফিস-আদালত, গার্মেন্টস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, শপিং মল—সবই খোলা আছে। উৎসব, আয়োজনও হচ্ছে। তাহলে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ কেন? এ প্রশ্ন আমাকেও পীড়িত করে। এর কারণ কী হতে পারে? এর অন্যতম কারণ সরকারের মধ্যে থাকা বৈষম্যের নীতি।
তিনি বলেন দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা মেধাশুণ্য হয়েপড়েছে, তারা মোবাইলে অনলাইনে ক্লাস করার পরিবর্তে মোবাইল গেম, পর্নোগ্রাফি সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে।

তেজগাঁও কলেজের ব্যানারে মুহাম্মদ আব্দুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, ‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু বর্তমান সরকারের কাছে জাতির মেরুদণ্ড হচ্ছে শাসন। শাসনকার্যের জন্য যা দরকার—গার্মেন্টস-শিল্পপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা, উৎসব আয়োজন, শপিং মল, গণপরিবহন খোলা রাখা; অর্থাৎ শাসনকে অব্যাহত রাখার জন্য যা দরকার, তাতে তাদের কোনো অসুবিধা নেই। সমস্যা হচ্ছে শিক্ষা নিয়ে। শিক্ষাঙ্গন বন্ধ থাকলে তারা যা-ই করুক, তার কোনো প্রতিবাদ হবে না। এ প্রতিবাদ সরকারের শাসন পরিচালনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে, এ ধরনের সামান্য আশঙ্কা থেকেই তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রেখেছে। মনে হচ্ছে, সম্ভব হলে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে তৈরি আছে। কোনো প্রতিবাদ, আন্দোলন যেন না হয়। এ অবস্থার তীব্র নিন্দা জানাই।’

সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের ব্যানারে থাকা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবটি দেখা হচ্ছে না। ছেলেমেয়েদের মধ্যে মাদক, পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি প্রবণতা আসছে। দেশে খেলার মাঠ নেই। গ্রামগঞ্জে যেসব ছেলেমেয়ে ঘরের মধ্যে রুদ্ধ হয়ে আছে, তারা সারাদিন কী করবে? এ রকম একটা সময়ে বাংলাদেশের কোটি কোটি তরুণকে করোনার কারণ দেখিয়ে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। অবিলম্বে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার অনুরোধ করছি। আমি বলছি না যে সবাইকে একসঙ্গে ক্লাস করানো হোক। অনেক ধরনের পদ্ধতি আছে—বিকল্প ক্লাস নেওয়া যেতে পারে, সপ্তাহে দুদিন ক্লাস নেওয়া যেতে পারে, শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া যেতে পারে, গ্রামগঞ্জের স্কুলগুলো সপ্তাহে অন্তত এক-দুদিন খোলা রাখা যেতে পারে।’

সাব্বির বিন হারুন ৭১বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের ভাবনায় শিক্ষার্থীদের দুরবস্থার বিষয়টি একেবারেই অনুপস্থিত। এ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অপমৃত্যু ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে শীঘ্রই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া নাহলে অভিভাবকদের সাথে নিয়ে গণআন্দোলন গড়ে তুলব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *