বিএনপি ছাড়া দেশ গড়ার অভিজ্ঞ আর কোনো দল নেই : তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিবেদিত করতে হবে। যাতে এই দেশ আগামীতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

Advertisement
বিএনপি ছাড়া এই বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে না কেউ, অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এ রকম কোনো রাজনৈতিক দল নেই। এই মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যে দলের অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে দেশকে সুন্দরভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পরিচালনা করতে হয়।

গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কে জেলা বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বিশেষ করে কৃষদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। তারা প্রতিনিয়ত কষ্টের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও আমাদের দায়িত্ব।
তিনি আরো বলেন, সামনে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। যদি দেশের ২০ কোটি মানুষকে একসাথে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়, তাহলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সিরাজগঞ্জ ও পাবনার ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। যুবকদের দক্ষ করে তোলার জন্য আইটি সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ADVERTISEMENT

তারেক রহমান আরো বলেন, আমরা যদি তাঁত বা লুঙ্গির কথা বলি, তাহলে চোখের সামনে ভেসে উঠে সিরাজগঞ্জ ও পাবনার এলাকা। এই এলাকার মানুষ তাঁতশিল্পের সাথে জড়িত। ক্ষমতায় গেলে সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের উৎপাদিত পণ্য সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ। ৫ আগস্টে আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো হয়েছে। অনেকেই আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। দেখা মাত্র বলবেন, ‘গুপ্ত তোমরা’। কারণ গত ১৬ বছর তাদের আমরা দেখিনি। ৫ আগস্ট যারা পালিয়েছে, তারা তলে তলে মিশে ছিলো।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রোমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ সিরাজগঞ্জ ও পাবনা আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীগণ।

এ সময় তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডক্টর জোবায়দা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা আসনের এমপি পদপ্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন। সমাবেশে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের নেতাকর্মীরাসহ লক্ষাধিক নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন। পরে জনসভা শেষে তারেক রহমান টাঙ্গাইলে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেয়ার জন্য রওনা দেন।

এদিকে সকাল থেকেই সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক সমাবেশে যোগ দেন। বেলা ১২টার মধ্যেই সমাবেশস্থল এবং আশপাশের সড়ক কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

সমাবেশে জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের সাত শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী মাঠে ছিলো। এছাড়া মঞ্চের দুই পাশে ডিসপ্লের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। সমাবেশে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের কর্মীরা বিভিন্ন রঙ এর পোশাক ও টুপি পরে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায় প্রবেশ করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ধোপাকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে জনসভায় উপস্থিত ছিলেন। ২০০৮ সালে দেশ ছাড়ার দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

আতাউর রহমান আজাদ, টাঙ্গাইল জেলা থেকে : বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেছেন, এবার আমাদের আগের দিন থেকে ভোট দেয়ার প্রস্ততি গ্রহণ করতে হবে। যাতে আপনার ভোটে অন্য কেউ সিল দিতে না আসতে পারে। যার যার এলাকার ভোট কেন্দ্র সর্তক সৃষ্টি রাখতে হবে। সঠিক কেউ ভোট দিচ্ছে না কি অন্য এলাকা থেকে এসে ভোট দিচ্ছে এ ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে। সবাইকে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল উপজেলার দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোট দিয়ে চলে আসলে হবে না। ভোট যাতে অন্যদিকে চলে না যায়, বাক্স দেখাবে খালি আর দিবে ভরা। এইসব চলবে না। সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ২০০৮ সালে বাক্সের ম্যাজিক দেখানো হয়েছিল। রেজাল্ট পাল্টে দেয়া হয়েছিল। এবার যাতে রেজাল্ট পাল্টাতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এখনো কোনো কোনো মহল চেষ্টা করছে কিভাবে ভোটকে বাধাগ্রস্ত করা যায়। তাদের বিভিন্ন লোকজন দিয়ে মা-বোনদের এনআইডি ও বিকাশ নেয়ার চেষ্টা করছে। এভাবে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব জনগণের কাছে অর্পণ করেন।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তৃতা করেন টাঙ্গাইল-১ আসনের দলীয় প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম, টাঙ্গাইল-২ আসনের আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৩ আসনের ওবায়দুল হক, টাঙ্গাইল-৪ আসনের লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৫ আসনের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৬ আসনের রবিউল আওয়াল লাভলু, টাঙ্গাইল-৭ আসনের আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল-৮ আসনের আহমেদ আযম খান, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তৃতা করেন টাঙ্গাইল-১ আসনের দলীয় প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম, টাঙ্গাইল-২ আসনের আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৩ আসনের ওবায়দুল হক, টাঙ্গাইল-৪ আসনের লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৫ আসনের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৬ আসনের রবিউল আওয়াল লাভলু, টাঙ্গাইল-৭ আসনের আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল-৮ আসনের আহমেদ আযম খান, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।

মো. ওমর ফারুক, শেরপুরে (বগুড়া) থেকে : বগুড়ার শেরপুরে পথসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিন পর আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছি। আপনাদের সাথে থাকব। বগুড়ার উন্নয়নে বিএনপির সরকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আপনারা সব সময় বিএনপির পাশে ছিলেন। এবারও থাকতে হবে। ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। বিএনপিকে বিজয়ী করার জন্য ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

গতকাল শনিবার বেলা ২টার দিকে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার পথে বগুড়ার শেরপুরে তার গাড়িবহর থামিয়ে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পথসভায় তারেক রহমান বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। পরে তিনি দলীয় প্রার্থী সিরাজের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন।
দলীয় সূত্র জানায়, শেরপুরে ৩০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এ পথসভা হয়। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কে এম মাহবুবার রহমান হারেজ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা আলহাজ্ব জানে আলম খোকা, জেলা বিএনপির সদস্য আসিফ সিরাজ রব্বানী সানভি, শেরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, ধুনট উপজেলা বিএনপির সভাপতি তৌহিদুল আলম মামুন, সেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহ কাওসার আহম্মেদ কলিংসসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে, গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় শাজাহানপুর উপজেলায় পথসভা ও সকাল ১০টায় বগুড়ার একটি হোটেলে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। বৈঠকে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। সভা শেষে দুপুর ২টার পর তারেক রহমান সিরাজগঞ্জের জনসভার উদ্দ্যেশে বগুড়া ত্যাগ করেন।

হালিম আনছারী, রংপুর থেকে : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছে, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা জুলাই সনদকে সম্মান জানিয়ে স্বাক্ষর করেছি। জুলাই সনদ রক্ষা করতে হলে ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দেয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।

গত শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। এখানে আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছে, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ৫ আগস্টের বিপ্লবে সাধারণ মানুষের যে অংশগ্রহণ ছিল, সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। জুলাই শহীদদের স্বপ্ন, তাদের আত্মত্যাগ কোনো ভাবেই নষ্ট হতে দেয়া যাবে না।

তিনি বলেন, এই অঞ্চল কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এখানে আমরা আমসহ উৎপাদিত কৃষিপণ্যের জন্য হিমাগার স্থাপন করতে চাই। আমরা এই আইটি পার্ককে সচল করে শিক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত আইটিতে দক্ষ মানুষগুলোর কর্মসংস্থান করতে চাই।

নারীদের শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চাই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে। দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মা-বোন এই ফ্যামিলি কার্ড পাবে। এর মাধ্যমে সরকার থেকে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে যাতে মা-বোনেরা সাংসারিক সুবিধা করতে পারে। পাশাপাশি আমরা কৃষকদের জন্য একটি কৃষি কার্ড করতে চাই। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত কৃষকদের সার-বীজসহ কৃষি যন্ত্রপাতির সুবিধা দেয়া হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা অতীতে শুনেছি এ অঞ্চল মঙ্গা পীড়িত, অবহেলিত। কিন্তু আসলে এ অঞ্চল অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমরা এ অঞ্চলকে ঢেলে সাজাতে চাই। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চাই।

কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

বিএনপি সরকার গঠন করলে ইনশাআল্লাহ এ অঞ্চল আর অবহেলিত থাকবে না, মঙ্গা পীড়িত থাকবে না। আমরা এ অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা দিতে চাই, যাতে তারা বিভিন্ন কল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা উল্লেক করে তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান এ অঞ্চলের মানুষের কথা চিন্তা করে খাল খনন শুরু করেছিলেন। তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করেছেন। আগামী ১২ তারিখের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজে হাত দেব ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, এ অঞ্চলের গরীব ও মধ্যবিত্ত যারা বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েছেন, আমরা কথা দিচ্ছি বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব ঋণ পরিশোধ করতে হবে না, আমরা এসব লোন পরিশোধ করব ইনশাআল্লাহ। আমরা আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিএনপি সরকারে এলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার ব্যবস্থা করব।

তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি, বিগত ১৬-১৭ বছরে দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষের জন্য কেনো কাজ করা হয়নি। বড় বড় মেগা প্রকল্প করা হয়েছে। আমাদের এসব মেগা প্রকল্পে আপত্তি নেই, কিন্তু এসব মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করা হয়েছে। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করা হয়েছে। দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। আমরা সরকারে এলে এসব পাচার করা টাকা ফেরত এনে জনগণের কাজে লাগাব ইনশাআল্লাহ।

শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তারেক রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা আমরা কখনই ভুলে যাবো না। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। তাদের স্বপ্নকে লালন করে আমাদেরকে নতুন করে দেশ গড়ার কাজে হাত দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান কোনো রাজনৈতিক দলের দ্বারা সংগঠিত হয়নি, এই অভ্যুত্থান সর্বস্তরের জনগনের অংশগ্রহণে সম্ভব হয়েছে। ৫ই আগস্টের মাধ্যমে যে পরিবর্তন হয়েছে, সেটা হতে হবে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন। এজন্য ১২ তারিখে মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশকে কোনো দিকে পরিচালিত করবে, গণতন্ত্রের দিকে নাকি অন্য দিকে। অতীতে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, জনগণের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহি ছিল না, যার কারণে দেশে দুর্নীতি, অনাচার, গুম, খুন, নির্যাতন হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আমরা নিশি রাতের, গায়েবি, ডামি নির্বাচন দেখেছি। যারা এমন করেছে তারা চলে গেছে। কিন্তু আরেকটি মহল দেশে নির্বাচন বানচালের জন্য ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে এজন্য সতর্ক থাকতে হবে। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শহীদ জিয়া এবং খালেদা জিয়া দেশ গড়েছেন এখন আমাদের সকলের গড়ার পালা। ফজরের নামাজ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পড়তে হবে। যাতে আর কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে না পারে। জনগণ ১২ তারিখে সজাগ থাকলে ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন। জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার কাজ শুরু হবে ১৩ তারিখ থেকে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি সংস্কারের পক্ষে গণভোটে হ্যাঁ-তে রায় দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই সনদকে সম্মান করতে হবে। সে জন্যেই আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব ১২ তারিখে ধানের শীষে সীল দেয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় যে ব্যালট পেপারটা দিবে তাতে হ্যাঁ এর পক্ষে আপনারা রায় দেবেন। পরে তিনি এ অঞ্চলের ধানের শীষ প্রার্থীদের হাত তুলে পরিচয় করিয়ে দিয়ে সবার জন্য ভোট প্রার্থনা ও দোয়া কামনা করেন। পরে একজন হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর হাত তুলে তার জন্যও দোয়া কামনা করেন তিনি।

বিএনপির রংপুর সদর-৩ আসনের প্রার্থী ও মহানগর কমিটির আহবায়ক সামসুজ্জামান সামুর অভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ অন্যান্য প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে তিনি সড়ক পথে বগুড়া থেকে রংপুরের পীরগঞ্জে আসেন এবং শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে শহীদ আবু সাঈদের বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন ও তাদের খোঁজখরব নেন। পরে তিনি সড়ক পথে রংপুরে এসে রাত ৮ টা ৩১ মিনিটে রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাঁহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় পৌঁছালে কর্মীরা আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *