পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এ জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে।

এই অগ্রগতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর তালিকায় ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি লোডিংয়ের প্রায় তিন মাস পরই পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। সে হিসেবে জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে উৎপাদন শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি লোডিংকে দেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় এখন উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে প্রকল্পটি।

জ্বালানি লোডিং অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভসহ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ-এর প্রতিনিধি এবং রুশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের মাধ্যমেই ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জনের পথ তৈরি হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল ধাপ। ইতোমধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী অপারেটিং লাইসেন্স পেয়েছেন, যা ভবিষ্যতে প্রকল্প পরিচালনায় দেশীয় সক্ষমতা বাড়াবে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদী তীরে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন গতি আসবে এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *