নৌকার নেতাকর্মীদের হাত কেটে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যশোর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম লিটন। বেনাপোলে অনুষ্ঠিত এক কর্মীসভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে প্রতিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ (শার্শা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ আফিল উদ্দিন। আর দলীয় মনোনয়নে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটন। অভিযোগ রয়েছে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে তিনি প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। অবৈধভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি করছেন কর্মীসভা।
সম্প্রতি বেনাপোলে অনুষ্ঠিত এক কর্মীসভায় নৌকা প্রতীকের কর্মীদের প্রকাশ্যে হাত কেটে নেয়ার হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আতঙ্কে রয়েছেন দাবি করে নির্বাচন কমিশন ও জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক মঞ্জু। এ অবস্থায় সংঘাতের আশঙ্কা করছে সাধারণ ভোটাররাও।
শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক মঞ্জু বলেন, মনোনয়নে ব্যর্থ হয়ে আশরাফুল আলম লিটন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলীয় মনোনয়নে ব্যর্থ হয়ে তিনি রীতিমতো বেপরোয়া। প্রকাশ্যে জনসমাবেশ করে বিভিন্ন উস্কানিমূলক ও সন্ত্রাসী স্টাইলে বক্তব্য রাখছেন। বেনাপোলে অনুষ্ঠিত এক জনসমাবেশে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের কর্মীদের প্রকাশ্যে হাত কেটে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, তার এই উক্তি ধ্বংসাত্মক ও হানাহানির ইঙ্গিত বহন করে। এ ধরনের সন্ত্রাসী আচরণের জন্য শার্শার শান্তিকামী ভোটাররা ভীতসন্ত্রস্ত ও অজানা বিপদের আশঙ্কায় প্রহর গুণছেন।
আওয়ামী লীগের পঞ্চমবারের মতো দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত তিনবারের এমপি আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন এ ঘটনায় অত্যন্ত শঙ্কিত এবং নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন। এজন্য নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থিতা বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত ৪ ডিসেম্বর যশোরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক মঞ্জু। সেখানে হাত কেটে নেয়ার বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ, ফেসবুক উক্তির কপি ও প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আশরাফুল আলম লিটনের ওই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক বেনাপোলের পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের দাবি নৌকার নেতাকর্মী নয়, তিনি সন্ত্রাসীদের উল্লেখ করে ওই বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি বলেন, বক্তব্য ভালোভাবে শুনে দেখলে যে কেউ বুঝবে আমি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কিছু বলিনি। নৌকার কর্মীদের আঘাত করার অধিকার কারো নেই। অহেতুক তারা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।