তথ্য না দিলে পেতে হবে শাস্তি, হুঁশিয়ারি প্রধান তথ্য কমিশনারের

রাজধানী প্রতিনিধি: মোরশেদ আলম

তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী অনুসন্ধানকারীকে তথ্য না দিলে, মিথ্যা তথ্য দিলে অথবা তথ্য দিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে ‘শাস্তি পেতে হবে’ বলে হুঁশিয়ার করেছেন প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ। সোমবার তথ্য অধিকারকর্মীদের অভিজ্ঞতা, প্রতিবন্ধকতা এবং তা মোকাবেলায় করণীয় নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সরকারি-বেসরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করে সরকার।

এই আইনের অধীনে নাগরিকরা তথ্য চেয়ে আবেদন করলে কয়েকটি ক্ষেত্র বাদে অন্য সব তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রধান তথ্য কমিশনার বলেন, “এটা এমন একটি আইন যেখানে তথ্য গোপন করলে, তথ্য নিয়ে তালবাহানা করলে, এক পর্যায়ে শাস্তি পেতে হবে। এই আইনের ৭ ধারার মধ্যে না পড়লে তথ্য না দিয়ে যেতে পারবে না। তথ্য কেন চাচ্ছেন, এমন প্রশ্ন তোলা যাবে না।”

তিনি বলেন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরো কঠিন ব্যাবস্থা, এই কমিশন যে আদেশ দেবে, দুই পক্ষের জন্য মানা বাধ্যতামূলক। এর কোনো আপিল নেই, ‘লাস্ট কোর্ট’।

“একবার যদি বলা হয়, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, ওই বিভাগীয় ব্যবস্থা সেই কর্তৃপক্ষ প্রধান তদন্ত করে বলতে পারবে না যে, তথ্য কমিশন যা বলছেন তা ভুল। এটাকে একেবারে অকাট্য সত্য ধরে নিতে হবে। অর্থাৎ তিনি শাস্তি পাবেনই। চাকরিও চলে যেতে পারে।”

ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থীকে অভিযোগ প্রমাণ করার বিধান থাকলেও তথ্য অধিকার আইনে তা ‘উল্টো’ বলে জানিয়ে মরতুজা বলেন, “যিনি তথ্য চাচ্ছেন, তার কোনো কিছু প্রমাণ করার বিষয় নেই। যার কাছে তথ্য চাওয়া হবে তিনি যদি না দেন তাহলে এই প্রতিবন্ধকতা কেন করছেন, তার কারণ জানাতে বাধ্য হবেন। যথাযথ কারণ ব্যাখ্যা তাকেই করতে হবে। তা না হলে তাকে শাস্তি পেতে হবে।”

তথ্য লুকিয়ে রাখার নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরতে গিয়ে প্রধান তথ্য কমিশনার বলেন, “সংবাদ সম্মেলন করে সত্য তথ্য প্রকাশ না করলে গুজবের ডালপালা ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে।”

সভায় সাবেক তথ্য কমিশনার নেপাল চন্দ্র সরকার তার বক্তব্যে বলেন, তথ্য চাওয়া হলে এমন কথা বলার সুযোগ নেই যে, এই তথ্য দিয়ে আপনি কি করবেন বা এই তথ্য আপনার কি কাজে লাগবে! তিনি বলেন তথ্য অধিকার আাইনে পরিষ্কার বলাআছে বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক তথ্য চাইতে পারে। কেন তিনি তথ্য চাচ্ছেন তার কারণ ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই

এই আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বাড়ার পাশাপাশি দুর্নীতি হ্রাস পাবে বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান ও সাবেক আরেক তথ্য কমিশনার ড. সদেকা হালিম উপস্থিত ছিলেন।

বেসরকারি সংস্থা এমআরডিআই দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ‘মোর ইনফরমেশন মোর একাউন্টিবিলিটি’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এই প্রকল্পের অধীনে বরিশাল, যশোর এবং রংপুর জেলায় ৩৩ জন যুব নারী ও পুরুষের সমন্বয়ে সহযোগী দল তথ্য অধিকার নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

তথ্য অধিকার আইনের ব্যবহার করে স্থানীয় তিনটি সরকারি কার্যালয়ে তথ্য চেয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে যশোর দলের সদস্য বাবুল হোসেন, “আমি স্থানীয় একটি হাসপাতাল, কলেজ ও স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমিতে তথ্য চেয়ে আরটিআই করি। শিল্পকলা থেকে তথ্য পেলেও নির্ধারিত সময়ের পরও কলেজ ও হাসপাতাল থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।”

এমনকি কলেজ থেকে তথ্য চাওয়ার কারণে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বরিশাল দলের সদস্য সুকান্ত চন্দ্র হাওলাদার জানান, স্থানীয় জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ বেতার ও সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন তথ্যের চেয়ে আবেদন করেন তিনি, কিন্তু ২০ কার্যদিবস পার হওয়ার পরও তথ্য দেওয়া হয়নি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *