আজ (২৪ আগস্ট ২০২৩) রোজ বৃহস্পতিবার মিরপুরস্থ কমিউনিটি সেন্টারে সকাল ১১টায় ২০২৩ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধিত করল দি স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ঢাকা।

দি স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ঢাকার পরিচালক মু. আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান, লিগ্যাল সল্যুশন চেম্বারের হেড অফ চেম্বার, লেখক, মোটিভেশনার বক্তা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট আল মামুন রাসেল।
এডভোকেট আল মামুন রাসেল জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন,“স্বপ্ন দেখো বড় বড় স্বপ্ন” নিজের জীবন নিয়েও বড় স্বপ্ন দেখো। এগুলো যে বাস্তবায়িত হতেই হবে, তার নিশ্চয়তার কোনো দরকার নেই।কারণ তুমি স্বপ্ন দেখছ, ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছো না।কিন্তু ছোটবেলাতেই পণ করার দরকার নেই যে, ডাক্তার আমাকে হতেই হবে। ইঞ্জিনিয়ার আমাকে হতেই হবে। ছোটবেলায় তুমি বলতেই পারো, আমি বড় হয়ে পাইলট হব। অ্যাস্ট্রোনট হব।বলতে কোনো দোষ নেই।কিন্তু সেটা যেন ধনুর্ভাঙা পণ না হয়।”
তিনি আরো বলেন, “ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম হতে চেয়েছিলেন বিমানবাহিনীর পাইলট।সে জন্য তিনি দেরাদুনে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। আটজনকে নেওয়া হবে। এপিজে আবদুল কালাম পরীক্ষায় হলেন নবম।খুব মন খারাপ করে তিনি একটা নদীর ধারে বসে আছেন।এই সময় একজন বিজ্ঞ ব্যাক্তি এলেন তাঁর কাছে। বললেন, খোকা, তুমি কেন একা একা নদীর ধারে বসে আছ? কেন তোমার মন খারাপ?এপিজে বললেন, আমার জীবনের আর কোনো মানে নেই।আমি পাইলট হতে চেয়েছিলাম,কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেছি।এই জীবন নিয়ে আমি এখন কী করব?
বিজ্ঞ ব্যাক্তি বললেন-“তুমি পরীক্ষায় ফেল করেছ।এর একটা মানে আছে। তা হলো, নিয়তি তোমাকে বিমানবাহিনীর পাইলট হওয়ার জন্য তৈরি করেনি।তোমার ভাগ্যে নিশ্চয়ই অন্য কিছু হওয়া নির্ধারিত করে রাখা আছে।তুমি ওঠো যাও। অনুসন্ধান করো যে নিয়তি তোমাকে কী হওয়ার জন্য বানিয়েছে। যাও। ওঠো। অনুসন্ধান করো”
এ পি জে উঠলেন। তিনি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান পড়লেন।হলেন ভারতের সবচেয়ে নামি মহাকাশবিজ্ঞানীদের একজন।শেষে ভারতের রাষ্ট্রপতিও (২০০২-২০০৭) হয়েছিলেন তিনি।
কাজেই আমাকে পাইলট হতেই হবে, আমাকে ডাক্তার হতেই হবে—এ ধরনের গোঁয়ার্তুমির কোনো মানে হয় না।কিন্তু বড় স্বপ্ন দেখো।তাতে কোনো ক্ষতি নেই। স্বপ্ন বারংবার পরিবর্তন হবে, যেখানে তোমার নিয়তি সেখানেই তুমি যাবে এবং বড় স্বপ্ন দেখার কারণে বড় জায়গায় নিয়তি নির্ধারিত হবে ইনশাআল্লাহ।”

সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে শতাধিক ছাত্রছাত্রীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, টি-শার্ট, মোটিভেশনাল বই, ওয়ার্ড বুক, নোটবুক ও কলম উপহার দেন দি স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ঢাকা।
৭১বাংলা/রিয়াদ