উপকুলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন

“ত্রাণ চাই না বেড়িবাঁধ চাই, ভাসতে চাইনা সাইক্লোন শেল্টার চাই” এই আক্ষেপে ভারি হয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা।

শুক্রবার (২৮ মে) সকাল দশটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাতক্ষীরাসহ উপকূলে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাতক্ষীরা ছাত্রকল্যান পরিষদের উদ্যেগে, আমরা ঢাকাস্থ সাতক্ষীরা বাসি ও আমার বন্ধু ফাউন্ডেশন সাতক্ষীরা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

সাতক্ষীরা ছাত্রকল্যান সমন্বয়ক মুহাম্মদ আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ ফেরদৌস হোসাইন, আব্দুর রহমান, ওমার ফারুক, ইস্রাফিল হোসাইন, রিপন মিয়া,রবিউল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন “ত্রাণ চাই না বেড়িবাঁধ চাই, ভাসতে চাইনা সাইক্লোন শেল্টার চাই” আমাদের খাবারের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবেনা, বাপদাদার সহায়সম্পত্তি রক্ষা করতে পারি তার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধের ব্যাবস্থা করতে হবে। সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।

‘প্রাকৃতিক কারণে প্রতিনিয়ত উপকূলের কোনো না কোনো স্থানে বাঁধ ভাঙছে। আর এতে উপকুলের মানুষ সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়ছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বাংলাদেশে আঘাত না হানলেও, সামন্য পানি বৃদ্ধি পেয়ে আবারো জানান দিল যতই সংস্কার করা হোক না কেন, ষাটের দশকে তৈরি করা আয়তনে ছোট উপকূলীয় বেড়িবাঁধ কোনোভাবেই ওই অঞ্চলকে সুরক্ষা দিতে পারবে না। তাই দ্রুত জলবাযু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দূর্যোগকে বিবেচনায় রেখে নতুন পরিকল্পনায় বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। দুর্গত এলাকার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তাঁরা বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ভূমিকা নেই। অথচ এই বাঁধ ভেঙে গেলে যে চরম দুর্যোগ সৃষ্টি হয় তার ধকল স্থানীয় সরকারকে পোহাতে হয়। তাই বাঁধ ব্যবস্থাপনার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের আওতায় একটি জরুরী তহবিল গঠন করতে হবে। বাঁধ ব্যস্থাপনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকায় লবণ পানির বাগদা চিংড়ি রপ্তানি করে সরকার প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। কিন্তু সেই চিংড়ি চাষ এলাকায় লবণপানি উত্তোলনের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদি সুপেয় পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সেই সংকট উত্তরণে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সুপেয় পানি প্রাপ্তির জন্য উপকূলীয় জনগণকে এনজিওদের ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এটি অমানবিক ও অমর্যাদাকর।

বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার মধ্যে গত ২৬ মে ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জ্বলোচ্ছাসে বেড়িবাঁধ ভেঙে  খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় ঘূর্ণিঝড়দুর্গত উপকূলীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি রেখেছে বিভিন্ন সংগঠন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *