ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ব্যস্ততায় জাতীয় দল ছেড়েছিলেন প্রায় দু’বছর আগে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি আন্দ্রে রাসেল এই সময়ে। তবে যখন ফিরলেন, দেখালেন নিজের দাপট। ব্যাটে-বলে আলো কেড়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জেতালেন দলকে, জিতে নিলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
আন্দ্রে রাসেলের রাজসিক প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ব্রিজটাউনে বুধবার টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৩ ওভারে ১৭১ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। জবাবে ৪ উইকেট ও ১৭ বল হাতে রেখে জয় পায় ক্যারিবিয়রা। তিন ম্যাচ সিরিজে এগিয়ে গেল ১-০ তে।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডকে দারুণ শুরু এনে দেন ফিল সল্ট ও জস বাটলার। দুজন মিলে ৭৭ রান যোগ করেন পাওয়ার প্লেতে। তবে এরপরই বাধে বিপত্তি। দলে ফেরা আন্দ্রে রাসেল বল হাতে তুলে নিয়েই ফিরিয়ে দেন ঝড় তোলা ফিল সল্টকে। ২০ বলে ৬ চার ও ১ ছয়ে ৪০ রান করেন সল্ট।
তিন নম্বরে নেমে উইল জ্যাকসও দ্রুতগতিতে রান তুলার চেষ্টা করেন, তবে তাকে থামতে হয় ৯ বলে ১৭ করে। দলীয় ১১৭ রানে বাটলার ৩১ বলে ৩৯ রান করে আউট হওয়ার পর ছন্দপতন ইংল্যান্ডের। শেষ ১১ ওভারে ইংল্যান্ড ৮ উইকেট হারিয়ে করেছে মাত্র ৭১ রান। ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং উপহার দেন আন্দ্রে রাসেল।
১৭২ রানের লক্ষ্যে নেমে স্যাম কারেনের প্রথম ওভারেই ব্রেন্ডন কিং দুই ছক্কায় নেন ১৬ রান। তবে ভয়ঙ্কর হওবার আগেই ১২ বল ২২ রান করে ফেরেন তিনি। আরেক ওপেনার কাইল মায়ার্স করেন ২১ বলে ৩৫ রান।
১১তম ওভারে ১০০ রান পূর্ণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ঠিক এর পরেই নিকলাস পুরাণের উইকেটটি হারায় তারা। ১২ বলে ১৩ রান করে তিনি। পরের ওভারেই শিমরন হেটমেয়ার ফেরেন ১ রানে। বড় ধাক্কা দেন রেহান আহমেদ পনেরোতম ওভারে। টানা দুই বলে ফেরান শাই হোপ ও রোমারিও শেফার্ডকে। ৩০ বলে ৩৬ রান করেন হোপ।
শেষ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৪৫ রান। পাওয়েল ও রাসেলের ২১ বলে ৪৯ রানের জুটিতে ১১ বল বাকি থাকতেই প্রয়োজন সহজেই মেটায় ক্যারিবিয়রা। ১৫ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক পাওয়েল। রাসেল করেন ১৪ বলে ২৯ রান।
ইংল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন লেগ স্পিনার রেহান আহমেদ। আরেক লেগ স্পিনার আদিল রশিদ ২৫ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।