চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সিরিয়ায় বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয় এক নবজাতককে। উদ্ধারকারীরা যখন শিশুটিকে খুঁজে পায় তখনো মায়ের শরীরের সঙ্গে তার নাড়ি জড়ানো ছিল। প্রসবের পরই শিশুটির মায়ের মৃত্যু হয়েছিল।
ধ্বংসস্তূপ থেকে সেই নবজাতক উদ্ধারের ভিডিওটি তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
গত রবিবার তার বয়স ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। প্রথমে ‘আয়া’ নাম রাখা শিশুটির শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। চিকিৎসক জানিয়েছেন, উদ্ধারের পর শিশুটির শ্বাসকষ্টসহ কিছু শারীরিক জটিলতা ছিল। এখন সে সব সমস্যা আর নেই।
‘আয়া’ আরবি ভাষার শব্দ, যার অর্থ অলৌকিক। স্বজনদের এমন নাম দেওয়ার কারণ, তার বেঁচে যাওয়াকে অলৌকিক ছাড়া আর কিছু মনে করতে পারেনি তারা। হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আয়াকে তার স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে মায়ের নামানুসারে তার নাম রাখা হয়েছে আফরা।
সে এখন সিরিয়ার জিনদাইরিস শহরে খালা-খালুর বাড়িতে বেড়ে উঠছে। চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দুটি দেশেই অসংখ্য বহুতল ভবন ধসে পড়াসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। নিহত হয় দুই দেশের ৪৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। ভূমিকম্পে আফরাদের বাড়িটিও ধসে পড়েছিল।
এর মধ্যেই আফরার গর্ভবর্তী মায়ের প্রসব বেদনা ওঠে। পরে ধ্বংসস্তূপের নিচেই সন্তানের জন্ম দেন তিনি। উদ্ধারকর্মীরা খুঁজে পাওয়ার আগেই মা, বাবা ও চার ভাই-বোনের সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। বেঁচে থাকে শুধু নবজাতক আফরা।
আফরার খালু খলিল আল-সাওয়াদি বলেন, ‘আফরার হাসিটা আমাকে ওর বাবা আর বোন নাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। ধ্বংসস্তূপ সরাতে গিয়ে আমরা আফরার কান্না শুনতে পাই। ওর নাড়ি তখনো মায়ের সঙ্গেই জড়িয়ে ছিল। আমাদের মনে হয়েছিল, পরিবারটি শেষ স্মৃতি হিসেবে আফরাকে দিয়ে গেছে।’
অন্য খবরে বলা হয়-
আফরা বর্তমানে ভালো আছে বলে জানিয়েছে তার ফুফা। তিনি বলেছেন, ‘আমি তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন আফরা পুরোপুরি সুস্থ আছে।’
আফরাকে উদ্ধারের পর যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তখন তাকে দত্তক নিতে এগিয়ে আসেন কয়েক হাজার মানুষ। কিন্তু তার ফুফু হালা জানান আফরাকে তিনিই বড় করবেন। তবে কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিশ্বাস করতে চায়নি হালা তার আত্মীয়, তাই তারা তাকে হালার কাছে প্রথমে দিতেও চায়নি। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়ার পর ফুফু হালার কোলে তুলে দেওয়া হয় আফরাকে।
ধ্বংসস্তূপে আফরার জন্ম হওয়ার তিনদিন পর তার ফুফু হালার ঘর আলো করেও জন্ম হয় আরেকটি শিশুর। বর্তমানে অন্যান্য ফুফাত ভাই-বোনদের সঙ্গেই খেলাধুলা করে সময় কাটে তার।