‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন জনগণ রুখে দেবে’ : রেজাউল করিম

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন জনগণ রুখে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

তিনি বলেছেন, ‘জনতা পাতানো খেলায় কোনোভাবেই পা দেবে না। সরকারের পদত্যাগ ও কেয়ারটেকার সরকার ছাড়া দেশে যেকোনো ধরনের নির্বাচন জনগণ যেকোনো মূল্যে রুখে দেবে।’

শুক্রবার রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে নির্বাচন বর্জন, ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত, নির্বাচন প্রত্যাখান এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত গণসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন।

ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতেই দেশে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণী তৈরি করেছে। তারা দেশের জনপ্রশাসন ও বিচারবিভাগসহ সকল জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। এমনকি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনকে দাসপ্রবণ ও আত্মসম্মানহীন লোকদের নিয়োগ দিয়ে সরকারের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা নির্বাচনকে প্রতিপক্ষহীন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামুক্ত রাখার জন্যই কেয়ারটেকার সরকারের গণদাবি উপেক্ষা করে নির্বাচনের নামে কানামাছি খেলা শুরু করেছে। আর এর জন্য বেছে নেয়া হয়েছে নাম-পরিচয়হীন রাজনৈতিক এতিম ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গহীন নির্বাচনী ভিক্ষুকদের।’

তিনি বলেন, ‘সরকার নির্বাচনী ময়দানকে ফাঁকা করার জন্যই আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ জাতীয় নেতাদের অন্যায়ভাবে কারাগারে অন্তরীণ করে রেখেছে। তারা নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণহারে সাজা দেয়া শুরু করেছে। কিন্তু এসব করে ফ্যাসীবাদীদের শেষ রক্ষা হবে না।’

তিনি সরকারকে অবিলম্বে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগরী উত্তর আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় নেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় মহানগরী সেক্রেটারির সাথে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য মাহবুবুল আলম, মাজহারুল ইসলাম, গাজী মনিরুল ইসলাম ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি সালাহউদ্দীন প্রমুখ।

মিরপুরে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ
মিরপুর পূর্ব থানার উদ্যোগে চলমান গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরে সহকারী সেক্রেটারী ডা. ফখরুদ্দীন মানিক। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য টুটুল, জামায়াত নেতা আবু নাঈম, জাহাঙ্গীর আলম, রেদওয়ান, ছাত্র নেতা নাজমুল ও সদস্যরা।

কারওয়ান বাজারে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ
গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিলি করেন ঢাকা মহানগরী উত্তর হাতিরঝিল অঞ্চলের নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য আমিনুল ইসলাম, মনির আহমেদ, জামায়াত নেতা ফরিদ আহমেদ রুবেল ও মিয়া মুহাম্মদ তৌফিক প্রমুখ।

ভাষানটেকে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ
কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে ভাষানটেক থানার উদ্যোগে বাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিকের নেতৃত্বে লিফলেট বিতরণে আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য এম এ টুটুল, কাফরুল অঞ্চল টিম সদস্য আলাউদ্দিন মোল্লা, মহানগরী মজলিশে শূরা সদস্য ও ভাষানটেক থানা আমির মাওলানা দ্বীন মোহাম্মদ হাবীবি, থানা কর্মপরিষদ সদস্য এম এস রেজাউল, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ ও হারুন ও সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

কাফরুলে লিফলেট বিতরণ
নির্বাচন বর্জন এবং ভোটারদের ভোটদানে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে কাফরুল উত্তর বাইশটেকি বাজারে গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতারা।

তালতলা বাজারে লিফলেট বিলি
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তালতলা বাজারে মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য এবং থানা আমির অধ্যাপক এ করিমের নেতৃত্বে কাফরুল দক্ষিণ থানা জামায়াতের লিফলেট বিতরণ এবং গণসংযোগ করা হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেন স্থানীয় নেতারাসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ জনগণ।

এছাড়াও রামপুরা, বাড্ডা, গুলশান, মোহাম্মদপুর, বনানী, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলা নগর, রূপনগর, দক্ষিণখান, উত্তরখানসহ সাংগঠনিক ৫৩ থানায় উক্ত কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *