গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে লিবিয়ায় নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা

লিবিয়ার সাবেক একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে এবং একসময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি (৫৩) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) লিবিয়ার জিনতান শহরে নিজ বাসভবনে এক সুপরিকল্পিত হামলায় তিনি প্রাণ হারান।
কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে আল-জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সাইফ আল-ইসলামের আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান ফেসবুকে পৃথক পোস্টে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
লিবিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘ফাওয়াসেল মিডিয়া’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিনতান শহরে সাইফ আল-ইসলামের বাড়িতে সশস্ত্র হামলাকারীরা হানা দেয়।
পরবর্তীতে সাইফ আল-ইসলামের রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি তার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং এই কাপুরুষোচিত ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা তাদের জঘন্য অপরাধের প্রমাণ লোপাট করতে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। এ সময় সাইফ আল-ইসলাম হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানানো হয়।
ত্রিপোলিভিত্তিক হাই স্টেট কাউন্সিলের সাবেক প্রধান খালেদ আল-মিশরি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি করেছেন।
কে ছিলেন এই সাইফ আল-ইসলাম?
১৯৭২ সালে ত্রিপোলিতে জন্মগ্রহণকারী সাইফ আল-ইসলাম ছিলেন মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে আলোচিত সন্তান। বাবার শাসনামলে সরকারি কোনো পদে না থাকলেও ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তাকেই গাদ্দাফির উত্তরসূরি বা ‘ডি ফ্যাক্টো’ নেতা হিসেবে গণ্য করা হতো।
পাশ্চাত্যে শিক্ষিত সাইফ একসময় গাদ্দাফি সরকারের সংস্কারপন্থী এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কারিগর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
২০১১ সালে গণঅভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর সাইফ আল-ইসলাম পালানোর সময় আটক হন এবং জিনতানে কারাবন্দি হন। ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তিনি জিনতানেই বসবাস করে আসছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *