গাজায় নিহতদের মধ্যে ২০০০ বা ৪০ শতাংশই শিশু

গতকালের হামলা যে কতটা নারকীয় ছিল, তা বোঝা যায় হতাহত মানুষের সংখ্যার দিকে তাকালেই। এদিন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় উপত্যকাটিতে বোমায় ৪৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গত ১৭ দিনে গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৭–তে। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৫৫ জন বা ৪০ শতাংশই শিশু। আর ১ হাজার ১১৯ জন নারী।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ৩২০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছে ইসরায়েল। এতে ধ্বংস হয়েছে একটি মসজিদসহ বহু স্থাপনা। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয়েছে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে। সেখানে অন্তত ৩০ জন নিহত হন। ফলে অন্যান্য দিনের মতো গতকালও গাজার হাসপাতালগুলোতে ছিল আহত ফিলিস্তিনিদের ঢল আর লাশের সারি।

গাজার হাসপাতালগুলোর অবস্থা চরম শোচনীয়। সেখানে না আছে বিদ্যুৎ, না আছে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম। চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। আহত ব্যক্তির সংখ্যা এত যে তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্তও পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে রেডক্রস ও গাজার বাসিন্দাদের রক্ত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
জাতিসংঘ বলছে, গাজায় চলমান সংঘাতে উপত্যকাটির ২৩ লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন শরণার্থীশিবির ও হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে এক হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া এক ফিলিস্তিনি বলেন, হাসপাতাল চত্বরে তাঁকে পরিবার নিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে। সন্ধ্যার দিকে আবার শীত নামতে শুরু করেছে। এতে দুর্দশা বেড়েছে। তবে অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।

এ চিত্র ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার রাফাহ এলাকার। গতকাল সোমবার সেখানে নির্বিচার বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি শিশুটি বাড়িতে ঘুমাচ্ছিল। হঠাৎ সেখানে বোমা হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যায় বাড়িটি। হামলায় নিহত শিশুটি জানে না তার কী দোষ। তার মতোই অসহায় শিশুর বাবা। তাঁর তিন মাস বয়সী সন্তানের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ইসরায়েলের হামলা। শুধু রাফাহই নয়, হামলা হয়েছে গাজাজুড়েই। গাজার বাসিন্দারা বলছেন, ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরুর পর থেকে গতকালই সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *