ইলিশ যত উপকার

ইলিশে যত উপকার
শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিতেও ইলিশ বাংলাদেশের সেরা। বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন মাছের মধ্যে ইলিশে সবচেয়ে বেশি পুষ্টিগুণ আছে। এটা বিজ্ঞানীরা বারবার প্রমাণ করেছেন। এত পরিমিত পরিমাণে ও নানা ধরনের পুষ্টিকর উপাদান বিশ্বের খুব কম মাছের মধ্যেই আছে। ১০০ গ্রাম ইলিশ মাছে আনুমানিক ৩১০ ক্যালরি, ২২ গ্রাম প্রোটিন ও ১৯ দশমিক ৫ গ্রাম ফ্যাট থাকে।

ইলিশে অন্যান্য মাছের তুলনায় স্যাচুরেটেড চর্বির পরিমাণ কম ও ওমেগা৩ ফ্যাটি (ইপিএ ও ডিএইচএ) অ্যাসিড বেশি থাকে, যা রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে দ্রুত ভালো চর্বি বাড়াতে সাহায্য করে। এতে হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে।

ইলিশের ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের কারণে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। এতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

ইলিশের ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নিরাময়ে বেশ ভালো কাজ করে। এ ছাড়া চর্বিসংক্রান্ত সব সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।

ইলিশের ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের দৃষ্টিশক্তি ভালো
রাখতে সাহায্য করে। ইলিশে থাকা ভিটামিন এ রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অবসাদের মোকাবিলা করতে পারে। সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার (এসএডি), পোস্ট-ন্যাটাল ডিপ্রেশন (সন্তান প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা) কাটাতে সাহায্য করে ইলিশ মাছ।

ইলিশে এল-আরজিনিন নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে, যা মাংসপেশি ও টিস্যু তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইলিশের প্রোটিন কোলাজেনসমৃদ্ধ। কোলাজেন হচ্ছে অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা কোষের যোগাযোগক্ষমতা বাড়িয়ে কোষের সার্বিক কার্যকারিতা বাড়ায়। এ ছাড়া ইলিশে ভিটামিন সি থাকে, যা ত্বক সুস্থ রাখে। এর কোলাজেন ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।

এত সব গুণে গুণান্বিত ইলিশের পদ যার পাতে পড়ে, সে নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *