কুড়িগ্রামের ‘গলার কাটা’ বেইলি ব্রিজ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর পাটেশ্বরীতে বেইলি ব্রিজের পাটাতন ভেঙে একটি পাথরবোঝাই ট্রাক আটকা পড়ে। তখন দুপাশে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ইনসেটে আটকাপড়া ট্রাক।
কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে দুধকুমার নদের ওপর থাকা সোনাহাট রেলসেতু এখন স্থানীয়দের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। ১৩৭ বছরের পুরোনো এই বেইলি ব্রিজের ওপর প্রায়ই স্টিলের পাটাতন ভেঙে বড় বড় ট্রাক আটকে থাকছে। তখন ব্রিজের দুপাশে গাড়ির দীর্ঘ জটলা তৈরি হয়। সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ও কুড়িগ্রাম সদরে যাওয়ার একমাত্র সড়ক হওয়ায় এখানে সব সময় গাড়ির চাপ থাকে। ব্যবসায়ীক ও দাপ্তরিক কাজে এ পথে প্রতিদিন হাজারও মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সব ব্যস্ততা থমকে যায় এই ব্রিজের কাছে এসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রিজটি বানানোর সময় আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০০ বছর। ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আসামের সঙ্গে এ অঞ্চলের রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্রিজটি ব্যবহার করা হতো। দেশ ভাগের পর এ পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হলে তখন স্থানীয়রা এটিকে যান চলাচলের উপযোগী করে তোলেন। কিন্তু সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিজটি রুগ্ণ হতে থাকে। ভারী যান নিয়ন্ত্রণে ব্রিজের দুপাশে দুজন নিরাপত্তারক্ষীও রাখা হয়। ১০ টনের বেশি ওজনের গাড়ি এই ব্রিজে ওঠার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে ২৫ থেকে ৩০ টন ওজনের পাথর বোঝাই ট্রাক এই ব্রিজ পারাপার হয়। তখনই ঘটে অঘটন। পাটাতন ভেঙে আটকে যায় ট্রাক। সরু ব্রিজ হওয়ায় তখন কোনো গাড়িই যেতে পারে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেইলি ব্রিজের পাশে থাকা নির্মাণাধীন নতুন ব্রিজের কাজও হচ্ছে ঢিমেতালে। এই ব্রিজটি হয়ে গেলে যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হবে।
গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকাগামী পাথরবোঝাই একটি ট্রাক সেতুর মাঝে পাটাতন ভেঙে আটকে যায়। পরে রাত ৯টার দিকে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর একইভাবে আরেকটি ট্রাক আটকা পড়েছিল। তখনও ব্রিজের দুপাশে ছিল গাড়ির দীর্ঘ সারি।