বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন-রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছু ধ্বংস করেছে। তারা দেশকে দেউলিয়া ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।’
বুধবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকার সবাইকে অপকর্মযজ্ঞের অবারিত সুযোগ ও উৎসাহ দিয়ে অপরাধী বানিয়ে অবৈধ ও পাতানো একতরফা নির্বাচন করাতে বাধ্য করছে। কাউকে মামলা দিয়ে, পুলিশ দিয়ে, কাউকে দুর্নীতি দমন কমিশন দিয়ে শায়েস্তা করা হচ্ছে। কোনো কিছু না করতে পারলে মিথ্যা অপবাদ-গালিগালাজ দিয়ে অপদস্ত করা হচ্ছে। সত্য প্রকাশ করার অধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ডামি নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে কোন কোন লুটেরা শত শত কোটি টাকা-সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সরকারের কোন মন্ত্রী বিদেশে দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকার ব্যবসা করলেও নির্বাচনী হলফনামায় এ তথ্য গোপন করেছেন সেই তথ্য তুলে ধরেছে। এই সত্য প্রকাশ করায় আঁতে ঘা লেগেছে নিশিরাতের সরকারের মন্ত্রী-এমপি-লুটেরাচক্রের।’
বিএনপি এই মুখপাত্র বলেন, ‘গত ২৩ ডিসেম্বর এক ব্রিফিংয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) রিপোর্টে ১৫ বছরে ব্যাংক থেকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ৯২ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে যে এটি আংশিক চিত্র। প্রকৃত তথ্য আরো ভয়াবহ। এ টাকার বড় অংশই বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এগুলো আর ব্যাংকে ফেরত আসবে না।’
তিনি বলেন, ‘টাকা দিয়ে কানাডায় বেগম পাড়া, আমেরিকায় বিলাস-বহুল বাড়ি-গাড়ি-ব্যবসা, দুবাই সিঙ্গাপুরে বিনিয়োগ, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমসহ তিন মহাদেশে সম্পদের পাহাড় গড়া হয়েছে। সুইচ ব্যাংকে নতুন নতুন অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। আর সাধারণ মানুষ ফতুর হয়ে খেয়ে না খেয়ে ধুকে ধুকে মরছে। সরকার এখন ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল রাখার চেষ্টা করছে। এবার যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করতেই হবে। এই আমি আর ডামি ভোট বর্জন করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, “তাদের দুশ্চিন্তা এখনো কাটেনি। গত কিছুদিন ধরে ওয়ান ইলেভেনের আতঙ্কের কথা বলছে তারা। ২৪ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ষড়যন্ত্র হচ্ছে। পিটার হাস ভারতে গেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে আর ওয়ান ইলেভেন ঘটাতে সমর্থন দেবে না ভারত’।”
রিজভী বলেন, ‘পরগাছা, পরজীবী, পরনির্ভর হয়ে বেশি দিন টিকে থাকা যায় না। বাংলাদেশে ভারত আরেকটি ওয়ান ইলেভেন ঠেকালেও ১৮ কোটি জনগণের রুদ্ররোষ থেকে বর্তমান সরকার পার পাবে না। এই সরকারের পতন অনিবার্য।’