‘সঙ্কট থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব’

তফসিল বাতিল, সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর ডাকা হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে গণঅধিকার পরিষদ।

আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টায় পুরানা পল্টন মোড় থেকে মিছিল বের করার সময় পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের সাথে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শেষে মিছিল বের পুরানা পল্টন মোড়, বিজয়নগর পানির ট্যাংকির মোড় ঘুরে আল রাজী কমপ্লেক্সের সামনে সড়ক অবরোধ করে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে তা শেষ হয়।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, আমরা মিছিল বের করতে গেলে পুলিশ আমাদের বাধা দেয়, তাদের অনেকের চেহারায় অস্বস্তির ছাপ ছিলো। কারণ তারা অনেকেই আমাদের পূর্ব পরিচিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাই- ব্রাদার। তারা কিভাবে আমাদের ওপর হামলা করবে? সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে একতরফা নির্বাচন করতে আজকে প্রশাসনকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ভিন্নমতের রাজনীতি করলেও গ্রামে, পাড়া-মহল্লায় মানুষের যে সম্প্রীতি ছিলো আওয়ামী লীগের সেটাও নষ্ট হয়ে গেছে। শোনা যায়, আজকে দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠান ভারতের নিয়ন্ত্রণে। পুলিশ প্রধান, গোয়েন্দা প্রধান, সরকার, বিরোধী দল কে হবে ভারত ঠিক করে দেয়ার চেষ্টা করছে। ভারত বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও পঙ্গু রাষ্ট্রে পরিণত করতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করার অপচেষ্টায় মগ্ন। আমরা জনগণের ভোটাধিকার ও দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। সেখানে পুলিশ কেন বাধা দেবে? সভা সমাবেশ আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। যে ইসিকে জনগণ মেনে নেয়নি তাদের নিষেধাজ্ঞায় কেন আমরা মিছিল-মিটিং বন্ধ করবো? আমাদের পরিস্কার কথা, আমরাও নির্বাচন চাই। সে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে। সুষ্ঠু নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অস্তিত্বহীনতার আশঙ্কায় থাকলে প্রয়োজনে রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে উত্তরণে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে জাতীয় সরকার হতে পারে। সরকারকে সকল দলের সাথে সংলাপের মাধ্যমে সে উদ্যোগ নিতে হবে। এখনো সময় আছে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে বলবো, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা করে জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি করুন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের উদ্যোগ নিন। জনগণকে বলবো- সরকারকে বাধ্য করতে আপনারা রাজপথে নামুন। পুলিশ যতই বাধা দিক, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। যে যেখান থেকে পারেন, সেখান থেকে কর্মসূচি বের করবেন। সর্বদলীয় গণপ্রতিরোধ কমিটি গঠন করে একতরফা নির্বাচন বন্ধ করতে হবে। সরকারকে বলবো- নিরস্ত্র জনগণের ওপর দমন-পীড়ন, অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে মিয়ানমারের মতো সশস্ত্র আন্দোলনের দিকে ঠেলে দেবেন না।

দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদ খান বলেন, আজকে পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের মিছিলে বাধা দেয়া হয়েছিলো। আমরা বলেছি, আমরা নির্বাচনের পক্ষে, বাংলাদেশে সকল দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হতে হবে। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলগুলোকে বাদ দিয়ে একতরফা নির্বাচনের পথে হাঁটছে। আওয়ামী লীগের কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক গোমর ফাঁস করে দিয়েছে যে, কিভাবে বিএনপির ২০ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের শর্ত দিয়েছে, নির্বাচনে গেলে একরাতেই সব নেতাকর্মীকে জামিন দেয়া হবে। আসলে কোনো বিচারবিভাগ আছে? আওয়ামী লীগ বিচারবিভাগকে ধ্বংস করে ফেলেছে। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে তাকে হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে। কিন্তু আব্দুর রাজ্জাক রাজসাক্ষী হয়ে জানালেন, আইন আদালত আওয়ামী লীগের ইশারায় চলে। আজকে দেশে কোনো নির্বাচন হচ্ছে না, নৌকা বনাম ডামি নৌকা ও স্বতন্ত্র নৌকার লড়াই চলছে। এই ভুয়া নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না, সর্বত্র লড়াই শুরু হয়েছে গেছে। যতই বাধা আসুক, রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে জনগণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। আমাদের ভয় দেখিয়ে রাজপথ ছাড়া করা যাবে না। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান করতে চাই, এখনো সময় আছে, সকল দলের সাথে বসুন, সুষ্ঠু নির্বাচনের উদ্যোগ নিন। জনগণ একতরফা তফসিল মেনে নেবে না, আগামী ৭ জানুয়ারি জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাবে না।

সঞ্চালনা করেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আব্দুজ জাহের। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, ফাতিমা তাসনিম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, মাহফুজুর রহমান, রবিউল হাসান, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, প্রচার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীব, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা সম্পদ, গণঅধিকার পরিষদ মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল করিম শাকিল, মহানগর উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমসহ নেতাকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *