ওসি আবদুল্লাহ’র আরও সাড়ে ৩ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ!

চলতি বছরের ১৫ জুন পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ আব্দুল্লাহ, তার স্ত্রী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ১৬ হাজার ৫৬৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ২৮ মে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন। মামলা দায়ের করার পর আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে স্থাবর সম্পদে ক্রোক বিজ্ঞপ্তি লাগানো হয়। ক্রোক করার আগে গত ৬ আগস্ট জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

ক্রোক করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে- কাকরাইলের আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লিমিটেডের ১৪তলা বাণিজ্যিক ভবন গ্রিন সিটি রিজেন্সির (২৬,২৭, ২৭/১ কাকরাইল) তৃতীয় তলায় দুই হাজার ১২০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ২৬৬ বর্গফুটসহ মোট দুই হাজার ৩৮৬ বর্গফুট বাণিজ্যিক স্পেস এবং ঢাকার বড় মগবাজারে এবিসি রিয়েল এস্টেটের দ্য ওয়েসিস কমপ্লেক্স টাওয়ারের (ইস্পাহানি কলোনি, ৩৯ বড় মগবাজার) ১০ম তলায় দুই হাজার ১৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট।

জানা গেছে, আসামি সৈয়দ আব্দুল্লাহ ১৯৯১ সালে সাব-ইনস্পেক্টর পদে পুলিশে যোগ দেন। ২০০৭ সালে ইনস্পেক্টর পদে পদোন্নতি পান। ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম ফারহানা আক্তার ও শাশুড়ি কারিমা খাতুন। সৈয়দ আব্দুল্লাহ মঠবাড়িয়া থানায় কর্মরত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদক ও চোরাকারবারিদের সঙ্গে সখ্যতা, মিথ্যা মামলার রেকর্ড ও অনৈতিকভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য ২০২০ সালে কমিশন থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ আব্দুল্লাহ প্রতারণার উদ্দেশ্যে স্ত্রী ফারহানা আক্তারের নামে দুটি এনআইডি কার্ড তৈরি করে এর বিপরীতে পৃথক দুটি ট্যাক্স শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) গ্রহণ করেন। যা ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এক কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫৫ টাকা, এক কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩১ লাখ টাকায় গাড়ি ক্রয়সহ মোট তিন কোটি সাত লাখ ৯৫ হাজার ৮৫৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ ক্রয় করেন। এ ছাড়া, নিজ নামে দুটি প্লট, স্ত্রীর নামে দুটি আবাসিক ফ্ল্যাট, একটি বাণিজ্যিক স্পেস এবং স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ পরিশোধ করে শাশুড়ি কারিমা খাতুনের নামে একটি আবাসিক ফ্ল্যাট বাবদ মোট ১৫ কোটি সাত লাখ ৬৪ হাজার ৪৩২ টাকার অধিক মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রয়ের তথ্য পাওয়া যায়। দুদকের অনুসন্ধানে এসব স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ১৮ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ২৮৬ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য মেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *