সকল রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে হেফাজতের সমাবেশ বুধবার

মাঠের রাজনীতিতে সক্রীয় হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গত ২০ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজায় ওপর হামলার প্রতিবাদে বিশাল শোডাউন করে অরাজনৈতিক সংগঠনটি। এবার বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবির সঙ্গে ১৩ দফা নিয়ে আন্দোলনে নামছে সংগঠনটি। ইতোমধ্যে সংগঠনের নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

আগামীকালে সম্মেলনের উদ্দেশ্য জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান, ‘হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তবে দেশের এই ক্রান্তিকালে আলেম-ওলামারা অতীতের ন্যায় তাওহিদী জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থাকবে। জালেমের জেল থেকে সকল আলেম-ওলামা ও মজলুম কারাবন্দীদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে ইসলাম আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এসময় আটক সকল কারাবন্দীদের ‍মুক্তির দাবি জানান হেফাজতের এই নেতা।

এদিকে বুধবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এতে সভাপতিত্ব করবেন হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) হেফাজতের প্রচার বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহ.) কর্তৃক ঘোষিত হেফাজতের ১৩ দফা বাস্তবায়ন, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতী মুনির হুসাইন কাসেমী, মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীসহ কারাবন্দী হেফাজত নেতাকর্মীদের দ্রুত মুক্তি এবং হেফাজতের নেতা-কর্মীদের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছি।’

তিনি জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সফল করতে সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও দেশের সর্বস্তরের আলেম-ওলামার প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, ‘২৫ অক্টোবর জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন সফল করার মধ্যদিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জাতীর সামনে পরিষ্কার করা হবে।’

এদিকে সংগঠনটির নেতারা বলছেন, সরকার ওপরে হেফাজতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক দেখাচ্ছে। কার্যত কোনো নেতাকর্মীর মামলা তো প্রত্যাহার করেইনি বরং নতুন নতুন মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। এছাড়া ১৩ দফা দাবির একটিও বাস্তাবায়ন করেনি। এছাড়া শীর্ষ নেতাদের আটক রেখে দিনের পর দিন কারা নির্যাতন করছে। সরকার এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *