এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তসহ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা।

আজ (২২ আগস্ট, ২০২৩) রোজ মঙ্গলবার সকাল দশটায় রাজধানীর মিরপুরস্থ এক অডিটরিয়ামে শাখা সভাপতি এমএ জামান ভূইয়ার সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডিবেট এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান, লিগ্যাল সল্যুশন চেম্বারের হেড অফ চেম্বার, লেখক, মোটিভেশনার বক্তা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট আল মামুন রাসেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সন্দীপন শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোবারক হোসাইন কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন – ইন্নী জা-ইলুন ফিল আরদি খলিফা মানে আল্লাহ মানুষকে দুনিয়াতে সকল সৃষ্টিকুলের প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এই প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে তৈরি করার জন্য সুন্দর পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন। পরিকল্পনা হলো কাজের অর্ধেক। পরিকল্পনা ছাড়া কোন কাজ সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করা কঠিন। তোমরা ভবিষ্যতে কি হতে চাও সেটা এখনই পরিকল্পনা করা দরকার। একটা সফলতার পিছনে তিনটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা কাজ করে, একটা হলো নিয়ত বা পরিকল্পনা, চেষ্টা ও অন্যটি হলো দোয়া। পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধব কারো সাথে বেয়াদবি করা যাবে না। তোমার জীবনে সফলতার পিছনে সকলের দোয়া প্রয়োজন।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের তিনটা দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে – একটা হলো আল্লাহর প্রতি কর্তব্য, পিতামাতার প্রতি কর্তব্য ও আরেকটি হলো মানুষের প্রতি মানুষের কর্তব্য। এই দায়িত্বগুলো তোমাদের যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আমরা এখন চারিদিকে দুর্নীতির সয়লাব দেখতে পায়, টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না। সকল দুর্নীতি মূলোচ্ছেদ তোমাদেরই করতে হবে। তোমরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতী গড়ার কারিগর। মেধাবীরাই আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবে। শিক্ষাঙ্গনে অপরাজনীতি ও অনৈতিকতার করাল গ্রাসে এখন নিমজ্জিত। ছাত্রদের হাতে এখন কলমের পরিবর্তে অস্ত্র ও মাদক তুলে দেয়া হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার সংমিশ্রণ জরুরি। ইসলামী ছাত্রশিবির এ কাজটিই সঠিকভাবে সম্পন্ন করে চলেছে। ২০২৩ সালে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরকে মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে আদর্শ জীবন গড়ে এদেশের পথ-হারা মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা উপস্থিত প্রায় দুই শতাধিক জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, টি-শার্ট, তিনটি মোটিভেশনাল বই, ওয়ার্ড বুক, নোটবুক, কলম, সম্মাননা কার্ড ও শিবিরের সংক্ষিপ্ত পরিচিত উপহার দেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি