বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির ব্যয় মেটাতে দফায় দফায় দাম বাড়াচ্ছে সরকার : ফখরুল

বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির ব্যয় মেটাতে সরকার দফায় দফায় দাম বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের এক মতবিনিময় সভায় বিদ্যুতের ফের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মঙ্গলবার রাতে বিদ্যুতের দাম আরও ৫%  বাড়ানো হয়েছে। যেটি এই কয়েক মাসের মধ্যে তিনবার বাড়ানো হলো। এর প্রধান কারণটা হচ্ছে, বিদ্যুৎ খাতে যে দুর্নীতি করেছে সেই দুর্নীতির ব্যয় মেটানোর জন্য তাদের (সরকার) এখন জনগণের পকেট থেকে টাকা কেটে নিতে হবে। সে কারণে তারা আজকে বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়াচ্ছে। বিদ্যুতের এই দাম বৃদ্ধিতে অর্থনীতিতে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে আমাদের সব উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। মানুষের জীবনের ওপর এর চাপ পড়ছে।

নিত্যপণ্যের দাম ৫৯ ভাগ বেড়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, চাল-ডাল-তেল-লবণসহ প্রতিটি জিনিসের মূল্য আজকে ভয়ানকভাবে বেড়ে গেছে। প্রায় তিনগুণ, চারগুণ, পাঁচগুণ থেকে এখন ৫৯ ভাগ বেড়েছে। সারা দেশে আজকে যখন প্রায় দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওর এলাকায় রাষ্ট্রপতির বাড়িতে গেছেন এবং সেখানে একটি উৎসব হচ্ছে। সেই উৎসবে প্রধানমন্ত্রীকে প্রায় ২৩ পদের মাছ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়েছে। দেশের দারিদ্র্যপীড়িত মানুষগুলোর সঙ্গে এটি একটা রসিকতা বা তামাশা করা হচ্ছে। এটি দেশের মানুষ কোনোদিন ক্ষমা করবে না।

সঠিকভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশেও সরকার ব্যর্থ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ছাত্রলীগের অত্যাচার-নির্যাতনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আজকে মেয়েরা পর্যন্ত নিরাপদ নয়। সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজগুলোতে একই অবস্থা। শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও প্রায় ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। তার মধ্যে তাদের লুটপাট বন্ধ নেই। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

বরিশাল বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদের দল সমর্থিত সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানদের এই মতবিনিময় সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপিতে সংযুক্ত ছিলেন। মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন ও ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রংপুর, খুলনা ও সিলেট বিভাগের ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বিএনপি। সেখানে বিএনপির তৃণমূল ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত রয়েছে দাবি করে সরকার হটাতে ঢাকায় সংগঠনকে শক্তিশালী করে কঠোর আন্দোলনের পরামর্শ দেন দলটির তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *