বজ্রপাতে মা’রা যাওয়া ছেলের লা’শ চু’রির ভ’য়ে রাত জেগে ক’ব’র পাহারায় বৃদ্ধ বাবা

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে বজ্রপাতে নিহত এক যুবকের লাশ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তার বৃদ্ধ বাবা। এমনকি ঋণ করে লোক রেখেও চলছে এই পাহারা দেওয়ার কার্যক্রম।

বজ্রপাতে কেউ মারা গেলে তার লাশ চুরি হয়—এমনই আশঙ্কা থেকেই রাত জেগে সন্তানের কবর পাহারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বজ্রপাতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে যুবক আরাফাত খানসহ ২ জন মারা যায়। জসিম খানের সন্তান সাকিব খানকে উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এরপর থেকে এক সপ্তাহ ধরে রাতে পাহারা দিয়ে আসছেন মৃত আরাফাতর বাবা জসিম খান।

প্রতি রাতে ছেলের কবরের পাশে বসে থাকেন বাবা এই দৃশ্য এলাকাবাসীর নজরে কারলে এলাকাবাসীও এগিয়ে আসেন পরিবারটিকে সহযোগিতায়। বর্তমানে স্থানীয় এলাকাবাসী এই ব্যাপারে পরিবারটিকে মানবিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে স্থানীয় প্রশাসনকে আহবান জানিয়েছেন।

এদিকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯ টার দিকেও সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে আরাফাতের কবরের পাশে বসে আছেন তার বাবা জসিম খান। কবরটি লোহার খাচা দিয়ে ডাকা রয়েছে।

মৃত আরাফাতের বাবা জসিম খান বলেন, ‘আমার ছেলে দর্জির কাজ করে সংসার চালাত। গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। লোকমুখে শুনেছি, বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ চুরি হয়ে যায়। এই লাশের হাড় গোড়সহ দেহ নানা কাজে লাগে। সেই ভয় থেকেই কবর পাহারা দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি অসুস্থ মানুষ, সবসময় থাকতে পারি না। ২ ছেলের মধ্যে আরাফাত বড় ছিল। ছোট ছেলের বয়স মাত্র ১২ বছর। এই জন্য এলাকাবাসী মাঝে মধ্যে সহযোগিতা করলেও সব সময় পাহারা দিতে পারিনা। তাই ঋণ করে লোক রেখে কবর পাহারা দিতে হচ্ছে। নিজের সংসারই ঠিকমতো চালাতে পারছি না, তবুও ছেলের কবর রক্ষায় প্রতিদিন খরচ করতে হচ্ছে। প্রশাসন যদি কবর পাহারার ব্যবস্থা করত, তাহলে কিছুটা শান্তি পেতাম।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, আমরা ইতোমধ্যে নিহতের দাফন কাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছি। কবর পাহারায় বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পাহারার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও যদি আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা সেটারও ব্যবস্থা করবো।

এদিকে বজ্রপাতে মৃতের মরদেহ চুরি কারণ জানতে স্থানীয় সচেতন মহলের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির মরদেহ চুরির মূল কারণ একটি ভ্রান্ত কুসংস্কার, যা সাধারণত গ্রাম এলাকায় বেশি প্রচলন আছে ।

ধারণা করা হয়, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির শরীর প্রাকৃতিক চুম্বক বা মূল্যবান কোনো ধাতুতে পরিণত হয়। এই কুসংস্কারের কারণেই অনেক সময় কবর থেকে লাশ চুরির আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই ধারণার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। এই লাশের বিশেষ কোনো কার্যকারিতা দেখা যায়নি।

তবে সেই ধারণার বসবত হয়ে একটি চক্র কবর খুঁড়ে লাশ চুরি করে তা কোনো কঙ্কাল সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *