হেফাজতে ইসলাম কারো ক্ষমতায় সিড়ি হিসেবে ব্যবহার হ.

Motivational Posters Were Written For People In Their Twenties

7.9

Score

No one is quite sure what Google plans to do with all of these pictures in the long run, and it’s possible the company hasn’t even figured that out. But in a landscape fast becoming dominated by artificial intelligence, data — in this case, your photos — has become its own reward.

The Good
The Bad
  • Google product
    9
  • window into a company
    4
  • Personal data
    7

‘মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরী কমিটির সদস্য সচিব।তবে দেশ-বিদেশে সুবক্তা হিসেবে তিনি সবচেয়ে বেশী পরিচিত। হেফাজতের ১৩ দফা দাবী আদায়ে তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সভা-সমাবেশে বক্তব্য রেখে ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি বেশ কিছু ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। ঢাকার মিরপুরে তিনি একটি মাদরাসা পরিচালনা করেন। বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতিতে তিনি মুফতি ফজলুল হক আমিনীর খুব ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। তার জীবদ্দশায় তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপুর্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫-মে হেফাজতের ঢাকা অবরোধ ও পুলিশি অভিযানের পর হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে দেশের মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। সেই আগ্রহ থেকেই আজকের সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছে। মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের সাথে একান্তে কিছু কথা বলেছেন  সাংবাদিক তালুকদার মাহমুদ রাকিব। প্রশ্ন:আপনি কেমন আছেন? জুনায়েদ আল হাবীব:এখন ভালোই আছি। গত সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। কোমড়ে একটু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তবে এখন কিছুটা সুস্থ বোধ করছি।দোয়া করবেন। প্রশ্ন: আপনাদের সংগঠনের কী এখন কোন কারযক্রম চলছে? চললেও মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছেনা কেন? জুনায়েদ আল হাবীব: আসলে আমাদের সংগঠনের এখন দেশব্যাপী গোছানোর কাজ চলছে। হয়তো আমরা এই মাসের শেষ নাগাদ ঢাকায় একটি ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন করবো। সেখানেই আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক হবে। আর মিডিয়ার বিষয়টি হচ্ছে আমরাই মিডিয়াকে কোন খবর দিচ্ছিনা। আগে আমরা কিছুটা হোমওয়ার্ক করে নেই। তারপরে সময় হলে আবারও সবাইকে ডাকা হবে। এবং আমাদেরকে আপনারা দেখতে পাবেন। প্রশ্ন:একটা প্রশ্ন পুরো দেশবাসীর মনে….তা হলো ৫-মের সংঘর্ষে আসলে কত লোক মারা গেছে? তার কী কোন সঠিক হিসাব আপনাদের কাছে আছে? আর থাকলে তা আপনারা প্রকাশ করছেন না কেন? জুনায়েদ আল হাবীব:দেখেন আপনারা (সাংবাদিকরা) সেদিন সেখানে ছিলেন। আপনারা দেখেছেন সেদিন রাতে লাইট বন্ধ করে কিভাবে আমাদের উপর হামলা করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। আপানদের মাধ্যমে তা পুরো বিশ্ববাসী দেখেছে। আর সেদিন আমাদের কতজন নেতাকর্মী মারা গেছেন, তা আমরা সময় হলেই প্রকাশ করবো। সরকার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন করলে সব বের হয়ে আসবে। আমরা আশা করি, তখন বিভিন্ন ভাবে তদন্ত কমিটি আসল সংখ্যা বের করে আনতে পারবে। আর কত লোক মারা গেছে এটা বের করাতো সরকারের কাজ। তারা কেন সঠিক হিসাব বের করছেনা? প্রশ্ন: ব্যক্তিগত ভাবে আপনি ৫-মের পরে এখন পরযন্ত কিভাবে কাটাচ্ছেন? জুনায়েদ আল হাবীব: আমি দেশ-বিদেশে মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছি। প্রশ্ন: একটু অন্য প্রশংগে আসা যাক। আমরা জানি, হেফাজতে ইসলামের যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে। কি উদ্দেশ্য নিয়ে মূলত আপনাদের এই ধর্মীয় সংহঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। একটু সংক্ষেপে আমাদের জানান। জুনায়েদ আল হাবীব: বাংলাদেশের মুসলমানদের ঈমান-আকিদা, নীতি-আদর্শ, সংস্কৃতি, সঠিক ধর্মীয় বিধিবিধান ও অনুশাসনের সুরক্ষা এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবেলায় ওলামা-মাশায়েখ এবং তৌহিদি জনতার সন্মিলিত কর্মপন্থা নির্ধারণ ও পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যেই ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নামের সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকেই হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ উপায়ে তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও নীতি সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আবারো স্পষ্ট করছি, আমাদের সব কর্মসূচিই শুধু ইসলাম ও মুসলিম স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট, দেশাত্মবোধক, শান্তিপূর্ণ এবং অরাজনৈতিক। প্রশ্ন: আপনারা প্রথম দিকে বলেছিলেন হেফাজতে ইসলাম মূলত একটি অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন। কিন্তু বর্তমান পরিস্তিতিতে হেফাজতকে কি শুধু অরাজনৈতিক সংগঠন বলা ঠিক হবে? বরং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা হেফাজতে ইসলামকে পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবেই বিবেচনা করছে। জুনায়েদ আল হাবীব: রাজনীতিবিদরা আমাদেরকে কি মনে করছে বা না করছে, সেটা তাদের ব্যাপার। হেফাজতে ইসলাম এখনো বলছে এটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি সরাসরি এ দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের ঈমানের সঙ্গে জড়িত। হেফাজতের ইসলামের ১৩ দফার আন্দোলন ঈমান ও দেশরক্ষারও আন্দোলন। হেফাজতের ১৩ দফার বাস্তবায়ন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সুদৃঢ় করবে এবং নারীদের সম্মান বৃদ্ধি করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কেবল এই কারণেই হেফাজতের ১৩ দফার আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই বলেই আমি মনে করি। আপনারা বলছেন, হেফাজতে ইসলাম ভারতের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কেবল ভারতের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে নয়, যেকোনো দেশের আগ্রাসী নীতি ও কৌশলের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলাম অবস্থান নেবে-এটাই স্বাভাবিক। আমিতো মনি করি অন্য যত রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দল আছে, তাদেরকেও এর বিরুদ্ধে কঠোরভাবে অবস্থান নেয়া উচিত। এমনকি দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো দল বা গোষ্ঠী যদি দেশবিরোধী, গণস্বার্থবিরোধী কাজ করে, সেক্ষেত্রেও হেফাজতে ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেবে। প্রশ্ন: হেফাজতে ইসলাম হয়ত রাজনীতির ময়দানে হাজির হতে চায় না। কিন্তু হেফাজতের মাধ্যমে অন্য কোন দল, বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত যেন ফায়দা নিতে না পারে, সে জন্য আপনাদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করা উচিত বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। আপনার মতামত কি? জুনায়েদ আল হাবীব: একটি বিষয় কিন্তু আমরা বারবার বলে আসছি,হেফাজতে ইসলাম কাউকে ক্ষমতা থেকে সরানো কিংবা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আন্দোলন করছেনা। দেখেন একটি দেশের ৯০ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর যেকোনো দাবির রাজনৈতিক তাৎপর্য থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। বর্তমান সরকার, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি-আদর্শগত অবস্থান কাছাকাছি। ফলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তি ও অবস্থান দ্বারা বামপন্থী দলগুলো এবং বামপন্থী দলের রাজনৈতিক শক্তি ও অবস্থান দ্বারা আওয়ামী লীগ উপকৃত হয়েছে এবং হচ্ছে। ঠিক একই ভাবে বিএনপি-জামায়াতসহ আরো কয়েকটি দলের অবস্থান ইসলামপন্থী দলগুলোর অবস্থানের কাছাকাছি। ফলে তারাও একে-অপরের দ্বারা উপকৃত হয়েছে এবং হচ্ছে। হেফাজতের ইসলামের সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের মতাদর্শের নৈকট্য রয়েছে। আর সরকার ও বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব রয়েছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করেন। ফলে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন দ্বারা বিএনপি, জামায়াতের লাভবান হওয়ার প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এর অর্থ এটা নয় যে, হেফাজতে ইসলাম তাদের লাভবান করতেই আন্দোলন করছে। মূলত তারা লাভবান হচ্ছে তাদের অবস্থানগত কারণে। সেক্ষেত্রে,আওয়ামী লীগ তার অবস্থান পরিবর্তন করে ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিলে হেফাজতের আন্দোলন থেকে তারাও কিন্তু লাভবান হতে পারে। সুতরাং এটা তাদের অবস্থানের প্রশ্ন। প্রশ্ন: আপনাদের ৮নং দফাটি নারীনীতি বিষয়ক। এই দফাটি নিয়ে বেশ কিছু মহল ব্যাপক সমালোচনা করছে। এটা নিয়ে কিছু বলবেন? জুনায়েদ আল হাবীব: ইসলাম নারীকে কোনোভাবেই শোষিত, বঞ্চিত কিংবা নির্যাতিত করেনি। সমাজ গঠনের তাদের ভূমিকাকেও ইসলাম অস্বীকার করেনি। ইসলামের অবস্থান হলো নারী-পুরুষ একে-অপরের পরিপূরক, সহযোগী। নারীকে পুরুষের মতো করার দরকার নেই। পুরুষের নারী হওয়ার দরকার নেই। আসলে নারী সংগঠনগুলো এ দেশে পশ্চিমা বস্তুবাদী জীবনব্যবস্থা প্রবর্তনে পশ্চিমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলাম মেনে চলা ব্যক্তি কর্তৃক নারী নির্যাতনের ঘটনা একেবারেই নেই বললেই চলে। এসিড নিক্ষেপকারী, ধর্ষক, যৌন-হয়রানিকারী, বিজ্ঞাপন, ফ্যাশন শো, সুন্দরী প্রতিযোগিতা ইত্যাদির মাধ্যমে নারী সৌন্দর্যের বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরা ইসলামপ্রিয় জনতা নয়। সুতরাং আশা করি সাধারণ মা-বোনেরা তাদের অপপ্রচারে কান দেবেন না।  সরকার ও সরকারের সঙ্গে জোটভুক্ত কিছু বামপন্থী রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনগুলো কর্মজীবী নারী বিশেষত পোশাকশিল্পে কর্মরত নারীদের ভূল বুঝিয়ে আমাদের আন্দোলনের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।  আমরা তীব্রভাবে এর নিন্দা জানাই। পাশাপাশি বলতে চাই, মানুষ একন আর এতা বোকা নয়। প্রশ্ন:জামায়াতে ইসলামীও বলে থাকে তারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করে। কিন্তু আমরা জানি তাদের মতাদর্শের সঙ্গে আপনাদের আদর্শের মিল নেই। সেক্ষেত্রে আপনাদের মধ্যে সমস্যাটা কোথায়? জুনায়েদ আল হাবীব: দেখুন হেফাজতে ইসলাম আর জামায়াতে ইসলামের মধ্যে মতাদর্শের বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। তবে সেই পার্থক্যের ভিত্তি রাজনীতি নয়। সেই পার্থক্যের ভিত্তি হলো ইসলাম। কিংবা বলা যেতে পারে মওদুদিবাদ। সুতরাং জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি হবে ইসলাম। জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে মত-পার্থক্যের বিষয়টি ক্ষুদ্র পরিসরে তুলে ধরা কঠিন। এ দলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই কয়েকটি মৌলিক বিষয় নিয়ে এ দলের সঙ্গে আলেম-উলামাদের দ্বিমত সৃষ্টি হয়। তাদের সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও হেফাজতে ইসলাম একমত নয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনায় হয়েছে। আমরা সব সময়ই বলেছি, তারা তাদের ভুল আকিদা ও কর্মকাণ্ডগুলো সংশোধন করে নিলে এ বিষয়ে কোনো অনৈক্য থাকে না। প্রশ্ন: চরমোনাইয়ের পীর আপনাদের কয়েকদিন আগেই মতিঝিলে সমাবেশ করেছেন। আবার আপনাদের অবরোধের আগের দিন আপনাদের সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে অনেকে আন্দোলনের ঐক্যের জন্য তাদের হুমকি মনে করেন। অনেকে অভিযোগ করেন, চরমোনাই, সরকার এবং ভারতের লেজুরবৃত্তি করছে। আবার আপনাদের সঙ্গে তাল দিচ্ছে। আপনার বক্তব্য কী? জুনায়েদ আল হাবীব: চরমোনাইনের পীর সাহেবের সঙ্গে আমাদের সংহতি প্রকাশের বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো, হেফাজতে ইসলাম চরমোনাইয়ের পীর সাহেবের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেনি। তিনিই হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। চরমোনাইয়ের পীর সাহেবের নিজস্ব রাজনৈতিক দল রয়েছে। আমরা আগেই বলেছি হেফাজতে ইসলামে সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্যে নিজ নিজ রাজনৈতিক দল পরিত্যাগ করে দলীয় কার্যক্রম বন্ধ করার কোনো শর্ত ছিল না। চরমোনাইয়ের পীর সাহেব নিজস্ব রাজনৈতিক দলের ব্যানারে আন্দোলন করতেই পারেন। সরকার বা ভারতের সঙ্গে তার কি ধরনের সম্পর্ক সেটা আমাদের ভাববার বিষয় নয়। এটা তাদের দলীয় বিষয়। প্রশ্ন: এছাড়া কিছু ওলামায়ে ছু বা দরবারি আলেমরাও আপনাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। যাদেরকে কেউ কেউ আবার সরকারী আলেম বলেও সম্বোধন করছেন। তারা ১৩ দফার চরম বিরোধতিা করছে। তাদেরকে আপানরা কিভাবে মোকাবেলা করবেন? জুনায়েদ আল হাবীব: এইসব দরবারি আলেমদের সাথে বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কোন যোগসূত্র খুবই নেই। সুতরাং এ বিষয়ে আমরা এতটা চিন্তিত নই। বাংলাদেশের সুচনালগ্ন থেকে এ দেশের মসজিদ-মাদরাসার খেদমত থেকে নিয়ে দ্বীনি প্রয়োজনে এসব দরবারি আলেমদের কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই। এক বিষয় আপনাকে ক্লিয়ার করি, আমাদের আন্দোলন কিন্তু সেই সব দরবারি আলেমদের বিরুদ্ধে ছিল না বা এখনো নেই। হেফাজতে ইসলাম বরং তাদের ১৩ দফা নিয়ে আন্দোলনের শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।িআমি মনে করি, সরকার তাদের হেফাজতে ইসলামের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দুঃখজনক হলো, তারা সরকারের পক্ষে গিয়ে ইসলামের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রশ্ন: আপনাদের আন্দোলন এখন আর শুধু কওমি মাদ্রাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আপনাদের লংমার্চ ও অবরোধে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষও যোগ দিয়েছেন। সেখানে অনেকে নিহত ও আহত  হয়েছেন।এখন এই বিষয়টি রাজনীতির দিকে মোড় নিয়েছে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। জুনায়েদ আল হাবীব: আমরা কখনই বলিনাই যে, আমাদের আন্দোলন কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদির নিয়ে। আমাদের আন্দোলন এ দেশের মুসলমানদের আন্দোলন। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও আমাদের প্রতিপক্ষ নন। সুতরাং সাধারণ জনগোষ্ঠী আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন দিবে এটাই স্বাভাবিক। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হলে জনগণ সরকারবিরোধী আন্দোলন করবে-এটাই স্বাভাবিক।রাষ্ট্র যদি দাবি মেনে না নেয় তবে সম্ভাব্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও আমরা চিন্তা করছি। রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের মতো অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আগেই রাষ্ট্র জনগণের দাবি মেনে নিয়ে শুভ বুদ্ধির পরিচয় দিবে বলে আমি মনে করি। প্রশ্ন: হেফাজতে ইসলাদের ১৩ দফাকে কোন কোন দল ভোটের রাজনীতিতে কৌশলে ব্যবহার করতে পারে। যা আমরা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দেখেছি। তাদের কিভাবে মোকাবেলা করবেন? জুনায়েদ আল হাবীব: যেহেতু আমাদের ১৩ দফা দাবির সঙ্গে দেশের ৯০ ভাগ মুসলমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। সুতরাং ভোটের রাজনীতিতে এটি কৌশলে ব্যবহার করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে কৌশল বলতে আপনি যদি এমনটি বোঝায় যে, কোন জোট যদি আমাদের ১৩ দফা দাবি আদায়ের আশ্বাস দিয়ে আমাদের সমর্থন প্রত্যাশা করা,সেক্ষেত্রে আমরা খুবই সজাগ দৃষ্টি রাখছি এবং রাখবো। আমরা আমাদের ১৩ দফা দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে কখনই কারো সাথে আপোশ করবো না। প্রশ্ন: রাজনৈতিক ক্ষমতার লক্ষ্যে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে কি? জুনায়েদ আল হাবীব: প্রত্যক্ষভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ে হেফাজতে ইসলাম অবতীর্ণ হবে কি-না সেটা নির্ভর করবে আমাদের দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে সরকার ও অন্যান্য নিয়ামক শক্তিগুলোর সার্বিক অবস্থার ওপর।আমরা আগেই বলেছি হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন অরাজনৈতিক আন্দোলন। তবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আন্দোলন বলে এর একটা রাজনৈতিক তাৎপর্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। প্রশ্ন: আন্তর্জাতিকভাবে ইসলামের যেকোনো উত্থানকে জঙ্গি রূপে প্রচার করা হয়। সাম্রাজ্যবাদী এ হস্তক্ষেপকে কিভাবে মোকাবেলা করবেন? জুনায়েদ আল হাবীব: সাম্রাজ্যবাদীরা এই ষড়যন্ত্র সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্যে সব থেকে বড় হুমকি। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর ব্যর্থ ও অযোগ্য নেতৃত্ব সাম্রাজ্যবাদী এই আগ্রাসনকে আরো সহজ করে দিয়েছে। তথাকথিত এক শ্রেণীর দালাল বুদ্ধিজীবীও এসবে তাল দেন। তবে বিষয়টি রাজনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমেই এটিকে মোকাবেলা করতে হবে। আমরা যেহেতু এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে  আবির্ভূত হইনি, তাই এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত বলার সময় আসেনি। প্রশ্ন: দেশের অন্য জাতির অধিকার রক্ষার জন্য আপনাদের কি কোনো পদক্ষেপ আছে? তাদের ধর্মীয় ও জাতিগত স্বাধীনতার বিষয়টি কিভাবে দেখেন? জুনায়েদ আল হাবীব: বাংলাদেশের অন্য ধর্ম ও জাতির অধিকার রক্ষার জন্যে আমাদের ১৩ দফাতে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রয়েছে। সুতরাং অন্য ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় ও জাতিগত স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবেন। প্রশ্ন: সর্বশেষ প্রশ্ন, আপনাদের কারনে হোক বা আপনাদের কর্মসূচিকে ঘিরেই হোক, দেশের দুটি চ্যানেল বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এর প্রতিবাদে আপনাদের তেমন কোন কর্মসূচি দেখা যায়নি। কেন? জুনায়েদ আল হাবীব: দেখেন এই সরকার মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বললেও, আসলে তারা মুক্ত গণমাধ্যম পছন্দ করেনা। আর তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো আমার দেশ পত্রিকা এবং দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি তারা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা সবসময়ই এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে এসেছি। বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি দিয়েছি। আমাদের আমীর আল্রামা আহমাদ শফি হুজুরও এর তীব্র নিন্দা এবং গণমাধ্যমগগেুরো খুলে দেয়ার দাবী জানিয়েছেন। তবে আলাদাভাবে কর্মসূচি না দেয়ার কারন হলো, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। প্রশ্ন: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। জুনায়েদ আল হাবীব: আপনাকেও ধন্যবাদ। ৭১ বাংলাকেও ধন্যবাদ। পাশাপাশি ৭১ বাংলার সকল পাঠককেও ধন্যবাদ। আমার জন্য দোয়া করবেন।’, ‘হেফাজতে ইসলাম কারো ক্ষমতায় সিড়ি হিসেবে ব্যবহার হবেনা: জুনায়েদ আল হাবীব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *