স্বাস্থ্য সচেতনতা: লো ব্যাক পেইন

লো ব্যাক পেইন। বা কোমরের ব্যাথা।  কমবেশি সব পেশার মানুষেরই এই অভিজ্ঞাতা আছে। লো ব্যাক পেইনের ব্যাপারে সচেতন না হলে অনেক সময় এটি বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। 

 লো ব্যাক পেইন কী?

লো মানেই আমরা নিছে বুঝে থাকি। কিন্তু এই  লো হচ্ছে আমাদের মেরুদণ্ডের নিচের অংশ। মেরুদন্ড মাথার নিচ থেকে পায়ুপথের  উপর পর্যন্ত। এই মেরুদন্ড মোট ৩৩ ভাগে বিভক্ত, এবং এই অংশগুলোকে ভারটিব্রা বলা হয়। এর মধ্যে লাম্বার অংশিটি হচ্ছে ব্যাক পেইনের প্রধান অংশ। লাম্বার অংশটি আবার ৫টি জোড়ার সমন্বয়। এই অংশটি আমাদের শরীরের অধিকাংশ কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন স্বাভাবিক চলাফেরা, ভার বহন, বসে বা দাড়িয়ে থাক। 

প্রত্যেকটি অংশে একাধিক পেশি এবং লিগামেন্ট থাকে। প্রতিটি ভারটিব্রার ফাকে ফাকে নরম হাড় থাকে যাকে ডিস্ক বলা হয়। এই হাড়গুলো যদি কোনো ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা সংকুচিত হয় সেক্ষেত্রে ব্যাথা হতে পারে। 

অনেকগুলো কারণে হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যেমন-

  • অতিরিক্ত ভার বহন করা।
  • দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা বসে থাক থাকলে।
  • অতিরিক্ত সামনের দিকে ঝুকে পড়লে।
  • হটাৎ কোনও ভারি বস্তু তোলা।
  • কোনও কারণে কোমরে আঘাত পেলে। 
  • চেয়ারে হেলান না দিয়ে সামনের দিকে কুঁজো হয়ে বসে থাকলে। 
  • শরীরের উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বেশি হলে।
  • এক হাতে ভার বহণ করলে।
  • কোমরের মাংসপেশী দুর্বল হলে হাড়ের উপ চাপ পড়ে এতে হাড় ক্ষয়ে ব্যাথা হতে পারে। ৎ
  • স্নায়ুচাপ বা মানসিক অস্তিরতার কারণেও ব্যাক পেইন হতে পারে। 
  • এছাড়া গর্ভাবস্থায় ব্যাক পেইন হতে পারে। 

ব্যাক পেইন বা কোমরের ব্যাথা থেকে মুক্তির উপায়: 

  • কাজের সময় দেহভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করবেন।
  • দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করতে হলে অব্যই মাঝে মাঝে হাটা চলা করা। 
  • চেয়ারে বসে কাজ করার সময় সোজা হয়ে বসে কাজ করা। 
  • হাতে ভার বহন করতে হলে দুই হাতে সমান ভর নিতে হবে। 
  • ভারি কোনও কিছু তুলতে হলে ধিরে ধিরে তোলা। 
  • অতিরক্ত ওজন কমানো। 
  •  চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হতে পারে বা ওষুধের প্রয়োজন হতে পারেচিকিৎসকরা অনেক সময়ে কোনও অসুধ দিতে পারেন। অনেকের ক্ষেত্রে আবার স্টেরয়েডও দিয়েও চিকিৎসা হয়।
  • ফিজিওথেরাপি বিভিন্ন ধরনের ফিজিওথেরাপি আছে যা অভ্যাস করলে এই ব্যথা কমতে পারে।
  • মাসাজ টেইল বোন বা ককসাক্সের (coccyx bone) আশেপাশে মাসাজ করলে ব্যথায় উপশম হতে পারে।
  • আদা আদাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। এই পটাশিয়ামের অভাবের ফলে নার্ভের সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিদিন নিয়মিত আদা খেলে কোমরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
  • হলুদ দুধের সঙ্গে নিয়ম করে হলুদ খেলে কোমরের ব্যথা অনেকটাই কমতে পারে।
  • মেথি বীজ– মেথি বীজের গুড়ো দুধের সঙ্গে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। ব্যথার জায়গায় এই মিশ্রণ লাগালে উপকার পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *